শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

‘অপরাজনীতি না ছাড়লে বিএনপি নিজেদের আগুনেই পুড়ে নিঃশেষ হবে’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ: / ১৩ জন পড়েছেন
বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০, ৪:৩০ অপরাহ্ন

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে এলেই বিএনপির রাজনীতি টিকবে, অন্যথায় বিএনপি নিজেদের আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে।’

মঙ্গলববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব‌্যে তিনি এ কথা বলেন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তথ‌্যমন্ত্রী।

বিএনপির নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল এবং বিএনপির অন‌্য নেতারা নানা কথা বলছেন। ২০১৩-১৪-১৫ সালে তারা যেভাবে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর খেলায় মেতেছিল, এখনও যদি আগুন নিয়ে খেলে, তারাই সে আগুনে জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে।’

বিএনপির অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য, রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য কি বাস পোড়াতে হবে? এ প্রশ্ন রেখে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করছে, বিএনপি আজকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে কি না? আমি বলব, বিএনপি দাঁড়িয়ে আছে, তবে পা এবং হাঁটু খুব নড়বড়ে। আমরা দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। আমরা আশা করব, বিএনপি হাঁটুকাঁপুনি ছাড়া দাঁড়াতে পারবে এবং তারা এই অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিএনপি করোনাভাইরাসে উদ্বিগ্ন মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বরং বাসে আগুন দিচ্ছে, অতীতের মতো মানুষ পোড়ানোর নোংরা খেলায় মেতেছে। এটি করার পর এমনভাবে অস্বীকার করছে, অবলীলায় মিথ্যা বলছে যে, আমাকে আবারও বলতে হচ্ছে, মিথ্যা বলায় পুরস্কার থাকলে বিএনপির নেতারা প্রথম পুরস্কার পেতেন। এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট, তারা এখন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, অতীতেও ঘটিয়েছে।’

বিএনপির বড় বড় নেতাদের অনেকেই মওলানা ভাসানীর অনুসারী ছিলেন। তারা ক্ষমতার লোভে জিয়াউর রহমানের বিতরণকৃত ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট নিতে মওলানা ভাসানীর আদর্শচ্যুত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘দলছুট, রাজনীতির হাটে বিক্রি হওয়া, আদর্শচ্যুত রাজনীতিবিদরা আসলে কোনো দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না, সেটিই আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘তিনি কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, ক্ষমতার সাথে আপোশ করেননি। মুসলিম লীগের ড্রইং রুমকেন্দ্রিক রাজনীতিকে জনগণের কাতারে আনার জন্য মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রথমে আওয়ামী মুসলিম লীগ ও পরবর্তীতে গঠিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সুতরাং, এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।’

ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এম এ ভাসানীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্য নূরুল আমীন রুহুল, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, অ‌্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গণি মিয়া বাবুল, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. আজগর আলী প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »