বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

এবার মেয়রের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুমকি দিল হকাররা

নউিজ নারায়ণগঞ্জ: / ২৩ জন পড়েছেন
বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১, ২:০৬ অপরাহ্ন

‘আপনি কর্পোরেশন চালাচ্ছেন, বসে বসে আপনার ইচ্ছেমতো পুলিশ পাঠিয়ে হকারদের লাঠিপেটা করছেন। বিক্রিযোগ্য মালকে নিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিবেন? আপনার কর্পোরেশনে আটক রাখবেন? এসব অন্যায় আমরা বরদাস্ত করবো না। পরিষ্কার বলি, আমার হকার ভাইদের ভুখা রেখে আগামীতে ইদ হতে দিবো না। আপনি মেয়র, আপনি আপনার বাড়িতে যে প্রাসাদ তৈরি করেছেন, প্রয়োজনে ইদের দিন সেই প্রাসাদ আমরা ঘেরাও করবো।’

‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ এরকমই শীর্ষক ব্যানারে শহরে প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে, নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদ।

বুধবার (৩ মার্চ) বিকাল ৫ টায় চাষাঢ়া শহীদ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার হকার নেতৃবৃন্দরা মিছিল শুরু করে, পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর ২ নং রেল গেইট হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন হকার নেতারা। সেখানে এ বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আবু হাসান টিপু এই ঘোষণা দেন।

আবু হাসান টিপু বলেন,  যেখানে এই শহরের ৫ লক্ষাধিক মানুষের জামাকাপড় থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার একমাত্র জায়গা এই ফুটপাত। বড়লোকের বড় বড় বিপণীবিতানগুলোতে আমাদের গরিব মানুষগুলো যেতে পারে না। তাঁরা বাধ্য হয়ে আসে ফুটপাতে, তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কেনার জন্য। আপনাদের আগেও বলেছি, কেবল এক-দেড় হাজার হকারের বিষয় নয়, এগুলোর সাথে শহরের আরো ৫ লক্ষ মানুষের সম্পর্ক আছে।’

এ সময় হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহিম মুন্সি বলেন, ‘আমাদের হকার ভাইয়েরা অনেক দিন যাবত অনাহারে অনিদ্রায় দিন কাটাচ্ছেন। গত রমজান মাসের পর থেকে করোনায় হকার ভাইয়েরা ৩ মাস বসে ছিলো। তাঁরা বের হতে পারে নাই, না খেয়ে না ঘুমায়ে দিন কাটিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মেয়র হকারদের মাঝে ১০টি টাকারও ত্রাণ বিতরণ করে নাই। আমরা তার নির্বাচনী এলাকায় বাস করি। তার দায়িত্ব, তার নির্বাচনী এলাকায় কে কেমন আছে, তা তার জানা দরকার। ১ বছর যাবত আমরা কোনো ফুটপাত দখল করে বসতে পারি না। আজকে হকারেরা ছেলে মেয়ের মুখে দুই বেলা দুইটা ডাল ভাত মুখে দিতে পারছি না। হকারেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে আর মেয়র তাকায়ে তাকায়ে দেখছেন, এটা কিন্তু ঠিক না। আপনাকে অনুরোধ করি, প্রতিহিংসা ছাড়েন। এই হকারদের ব্যবস্থা করেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত হকারদের বসতে দেন। আপনি বলেছিলেন, হকার মার্কেট বহুতলা ভবন করবেন। যদি পুনর্বাসন করেন, আমরা চলে যাবো। ৪টা ডাল ভাত খেয়ে হকাররা বাঁচতে চায়। তাঁরা খুব অসহায় অবস্থায় আছে।’

শ্রমিক নেতা বিমল কান্তি দাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটা সমাধান দিবেন, হকার ভাইয়েরা সেই আশা করেই এতদিন ছিলো। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম, যারা প্রতিনিধি এবং যারা সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের পক্ষ থেকে হকারদেরকে কোনোরকম পূনর্বাসন ছাড়াই রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রতিজ্ঞা দিয়েছিলেন, পূনর্বাসন ছাড়া কোনো রকম উচ্ছেদ করবেন না। কিন্তু আপনারা সেই কথা রাখেন নাই। তাই হকারদের রুজি-রুটি, বাঁচা মরার প্রশ্নে আমরা এই আন্দোলনে মাঠে আছি। প্রতিদিন আমরা এই রাস্তাতে আমাদের সভা-সমাবেশ ও মিছিল অব্যহত রাখবো। যতোদিন পর্যন্ত সরকার বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পূনর্বাসনের আয়োজন ছাড়াই পুলিশ দিয়ে হামলা করবে, উচ্ছেদ করবে, প্রতিদিন আপনারা রাস্তায় আসবেন। প্রতিদিন আমাদের মিছিল অব্যহত থাকবে। পূনর্বাসন ছাড়া শুধু লাঠিপেটা করে উচ্ছেদ আমরা কোনো দিন মেনে নেবো না।’

হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদের সভাপতিত্বে হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি রহিম মুন্সির নেতৃত্যে সকল স্তরের হকারটা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »