বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

গোগনগরে ভিজিডি কার্ডের চাল চুরির মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১১৩ জন পড়েছেন
আপডেট : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০, ৯:২৭ অপরাহ্ন
গোগনগরে ভিজিডি কার্ডের চাল চুরির মহোৎসব

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে সরকারী ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্ড প্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ কেজি করে। চাল বিতরণের ক্ষেত্রে দাড়িপাল্লার পরিবর্তে বালতিতে করে অনুমান নির্ভর ওজন করে দেওয়া হচ্ছে। এতে কার্ডধারীরা ৪ থেকে ৫ কেজি করে চাল কম পাচ্ছেন। কার্ড বাতিল হতে পারে এমন আশঙ্কায় কেউ কোন প্রতিবাদ করছেন না। বুধবার সকালে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ অভ্যন্তর থেকে চাল বিতরণের সময় এই অনিয়ন দেখা যায়। খবর পেয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী পরিষদে এসে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গোগনগর ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ওই সময় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মচারী পিন্টু তালুকদার ভিজিডি কার্ডে স্বাক্ষর করছিলেন। তিনি বলেন, আমি জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের ভিজিটিং ট্রেইনার হিসেবে আছি। এখানে আসার পর তোফাজ্জল হোসেন কাবিল মেম্বার এবং মহিলা মেম্বার তাহমিনা বেবিকে বলেছি এই বালতি দিয়ে কেন চালের ওজন করছেন। ৩০ কেজি বস্তা দেয়ার কথা। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোফাজ্জল হোসেন কাবিল মেম্বার এবং বেবি মেম্বারের সামনে এই চাল বালতি দিয়ে ওজন করে দেয়া হয়।
ইউপি সচিব মাহাবুবুর রহমান বলেন, বালতিতে ১২ কেজি চাল ধরে। আমরা তখন একটু কমিয়ে ৩ বালতি করে ৩০ কেজি দেই। কি করে চাল কম দেওয়া হলো তা আমি বুঝতে পারতাছি না। এই পর্যন্ত আমরা ৩০ থেকে ৪০ জনকে চাল প্রদান করেছি। যারা চাল ওজন দেয় তাদের বলেছি কম যেন না দেয়া হয়। ১ কেজি কম হলেও চলবে।
ভিজিডি কার্ডের চাল গ্রহণকারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি এই চাল নেওয়ার পরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কম পেয়েছি। ভয়ে প্রতিবাদ করিনি। কারণ প্রতিবাদ করলে কার্ড বাতিল করে দিতে পারে।
চাল গ্রহণকারী কয়েকজনের সন্দেহ হলে তারা চাল নিয়ে পাশের দোকানে পরিমাপ করেন। ওই সময় একজন ২৬ কেজি এবং অপরজন ২৫ কেজি আটশ চাল পেয়েছেন বলে জানান।
গোগনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার তাহমিনা বেবি বলেন, আমি বার বার বলেছি চাল ঠিকমত ওজন করে দিতে। গোগনগর ইউনিয়নের সচিব মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি পরিষদের থাকা অবস্থায় ভিজিডি কার্ড গ্রাহকদের ৩০ কেজির স্থলে ২৫ থেকে ২৬ কেজি দেওয়া হচ্ছে। এর দায়ভার আপনি কিভাবে এড়াবেন? তখন তিনি বলেন, আপনারা মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দিচ্ছে, এটা কেন কম হলো তারা বলতে পারবে।
খবর পেয়ে পরিষদে ছুটে আসেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তোফাজ্জল হোসেন মেম্বার। তিনি ঘটনাস্থলে এসে চাল কম দেওয়ার বিষয়টি হাতে নাতে ধরে ফেলেন এবং এ কারণে রাগারাগি করেন। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলীকে অবহিত করলে চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে অনিয়মের কারণে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, যারা মাপে কম দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন, ওখানে আমাদের একজন অফিসার আছে। তাকে দায়িত্ব দিবো, তিনি বিষয়টা দেখবেন।#


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »