শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগ নেতাকে পেটানো সেই আ’লীগ নেতার জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩৩ জন পড়েছেন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০, ১০:১২ অপরাহ্ন

 নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিন হোসেন সাগর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুতুবপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিকেল সাড়ে ৪টায় ৫শ’ টাকা বন্ডে তাকে জামিন দেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের বিশেষ আদালতে তোলা হয়। পরে আদালতে জামিন আবেদন করেন আসামি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুনানি শেষে ৫শ’ টাকা বন্ডে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত।
কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন মিজানের স্ত্রী। আমিন হোসেন সাগর কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। ক্যাবল (ডিশ) ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা মিজানের স্ত্রী স্বপ্না বেগম এজাহারে উল্লেখ করেন, মিজানের ছোট ভাই আলী নূরের ক্যাবল ব্যবসা রয়েছে। ক্যাবল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় আরেকটি পক্ষ। এ নিয়ে মিজান ও তার ভাই আলী নূরের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিল স্থানীয় আনিছুর রহমান ভুলু, আব্দুর রহমান, ইউপি সদস্য আমিন হোসেন সাগর, তাইজুল ইসলাম তাজু, মজিবুর রহমান, হান্নান মিয়া শান্তসহ কয়েকজনের সাথে। এরই জেরে গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে মিজানকে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে মাহমুদপুর তাইজুদ্দিন মার্কেটের সামনে লোহার পাইপ দিয়ে বেধরক পেটানো হয়। এ সময় মিজানের হাত ও পা ভেঙে ফেলা হয়। গুরুতর আহত মিজানকে সড়ক থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানান স্ত্রী স্বপ্না বেগম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিন হোসেন সাগর। ক্যাবল ব্যবসার সাথে জড়িত নন দাবি তার। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় ডিশ লাইন নিয়ন্ত্রণের অনেকগুলো গ্রুপ আছে। তাদের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকে। এর মধ্যে অযথাই আমাকে জড়ানো হয়েছে।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কুতুবপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা মিজান আমিন মেম্বারের হয়ে তার নির্বাচনে কাজ করছে। তারই লোক ছিল মিজান। ডিশ ব্যবসার চাঁদা দেওয়া নিয়ে মেম্বারের লগে মন কষাকষি হয়। মেম্বারের উস্কানিতেই এই মারধর।’Set featured image


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »