মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংকিত বিএনপিপন্থি আইনজীবী প্যানেল ভিন্ন রূপে নারী নেত্রী দিনা চিৎকার পৌঁছায় লন্ডনে, পরিবর্তনে বিএনপি সদর উপজেলায় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন: নাসাতে যেতে চাই -ডিসি বন্দরে রাজাকার পুত্রের নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটি’ শীর্ষ রাজাকারের পুত্র নিয়ে রাজনীতির মাঠে আনোয়ার হোসেন ১০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা মনির অধরা! আনন্দধামের পক্ষে সিমুর জেলা প্রশাসককে শুভেচ্ছা নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে স্থবিরতা শামীম আইভীতে বিভক্ত সরকার দলীয় রাজনীতি একজন মাদকাসক্তের করুন পরিনতি সোনারগাঁয়ে মেয়েকে উত্ত্যাক্তে করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দিলো বখাটে

দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন : টেনে হিচড়ে নামানো কি এত সহজ?-মেয়র আইভী

স্টাফ রিপোর্টার: / ২০১ জন পড়েছেন
বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশন : টেনে হিচড়ে নামানো কি এত সহজ?-মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জে শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা ও হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী পুরুষ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ।টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।

কর্মসূচিতে জেলা আইনজীবি সমিতি, ৭১’এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহানগর জাতীয় পার্টি, জেলা ও মহানগর জাসদ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক, চিকিৎসক, সাংবাদিক সংগঠন, নাসিকের কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। যে কোন ধর্মীয় উপসনালয়ের সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টাকে রুখে দিয়ে একযোগে প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছেন তারা।
তাদের এই দাবীর প্রতি সহমর্তিতা ও একাত্মতা প্রকাশ করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, আওয়ামীলীগের লেবাস লাগিয়ে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা করে মেয়র আইভী দলকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন আওয়ামীলীগ জনতার আর জনতার শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়র আইভীকে অবশ্যই জনতার বিচারের কাঠগোড়ায় দাড়াঁতে হবে। মন্দিরের সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে আজ মাঠে নামতে হয়েছে এটা এই সরকারের জন্য, আমাদের জন্য পীড়া দায়ক।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেছেন, আমি ২৫ বছর ধরে ৩দফায় মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছি। আমি কোন হিন্দু হিসেবে না, এই শহরের এই জেলার একজন সন্তান হিসেবে এখানে এসেছি। রাজনৈতিক ও পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনকালে আমাকে কখনওই সাম্প্রদায়িকতার মুখোমুখি হতে হয়নি। আমার মৃত্যুর পর আমার মৃতদেহটির সামনেই হয়তো কোন মুসলিম ভাই বহন করবেন আর পেছনে থাকবেন হিন্দু ভাই। এটাই তো অসাম্প্রদায়িক নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু বড় কষ্ট হয় যখন দেখি আমাদের সরকার আমলে আমাদেরই দলের মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় যখন দেখি জনবিচ্ছিন্ন বামপন্থীরা এই সরকার আর জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করার দু:সাহস দেখায় আর এই মেয়র আইভী তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসেন। কর্মী-সমর্থকদের কাছে তখন লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায় আমাদের। কিন্তু এই অবস্থা চলতে দেয়া যায়না, চলতে দেয়া যাবে না। খোকন সাহা বলেন, আমি আজ এই মঞ্চে ওয়াদা করছি শুধু মন্দিরের সম্পত্তিই নয়, সে মসজিদ হোক, গীর্জা হোক কিংবা প্যাগোডা হোক, যেকোন ধর্মীয় উপসনালয়ের সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে আমি পেশাগত ও রাজনৈতিকভাবে পাশে দাড়াঁবো।

এদিকে অনশন কর্মসুচীতে সংহতি প্রকাশ করে জেলা আইনজীবি সমিতিরি সভাপতি এড.মহসিন মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক এবং গর্হিত কাজ। আমরা জেলা আইনজীবি সমিতি সভা করে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন থেকে কোন মসজিদ, মাদ্রাসা, গীর্জা, প্যাগোডা, মন্দিসহ কোন ধর্মীয় উপসনায়ের সম্পত্তি হরণের অপচেষ্টা হলে আমাদের সাহায্য চাইলে আমরা আইনজীবি সমিতি নিজস্ব উদ্যোগে ও বিনাপয়সায় তাদের পাশে দাড়িঁয়ে আইনী সহায়তা প্রদান করবো।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ মিলন বলেন, একটি ক্ষুধা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টি করতেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিলাম। আমার এখনও মনে আছে আজ থেকে প্রায় ৬বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বের করে দেয়া হয়েছিল। সেদিন শহীদ মিনারে অনুমতি নেয়ার অজুহাতে জাতির বীর সন্তানদের অনুষ্ঠান করতে দেয়নি মেয়র আইভী। চোখের পানিতে ভিজে আমরা চাষাড়া গোল চত্বরে মুখে কালো কাপড় বেধে সেই প্রতিবাদ করেছিলাম। আজ তার বিরুেদ্ধ মন্দিরের সম্পত্তি আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সনাতনী ধর্মালম্বী পাশে থেকে মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিহত করবে।

৭১’এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, যে শহরের জন্ম থেকে কবরস্থান, শ্মশান আর খ্রিস্টানদের সমাধিস্থল একসাথে সেই শহর অসাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষর বহন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দলের আর অসাম্প্রদায়িকতার লেবাস লাগিয়ে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে, মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পত্তি দখল করে তারা এই নারায়ণগঞ্জে বসবাসেরই যোগ্য না। তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে এবং অচিরেই আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমুার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার বলেন, ‘লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের নিজস্ব সম্পত্তি জিউশ পুকুরটি গিলে খেতে চাচ্ছেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও তার পরিবার। যে সকল নকল দলিল করে এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে সেইসব দলিলেই মেয়র আইভীর মা, ২ ভাই, মামা, খালাসহ তারই আত্মীয় স্বজনের নাম রয়েছে। ভোটের সময় মেয়র আইভী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে ‘করজোরে নমস্কার’ করেন, অথচ তার পরিবারই এই মন্দিরের তথা দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। ইতিপূর্বে মেয়র আইভীর বাবা প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকাও আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে জিয়াউর রহমানের আমলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে এনে সভা করতেন। যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদ যে স্কুলের পিন্সিপাল ছিলেন সেই আদর্শ স্কুলের জায়গাও তিনি দখল করে বিক্রি করেছিলেন জামায়াত নেতাদের কাছে। মেয়র আইভী ও পরিবারের এই লেবাসী ভুমিকা আমাদের কাছে অনেক আগেই উন্মোচিত’। বিকাল ৫টায় অনশন ভাঙ্গান সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেয়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গত ১১নভেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছিল হিন্দু সম্প্রতায়ের নেতারা।
এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে নাসিক মেয়র আইভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লক্ষীনারায়ণ আখড়ার কোন দেবোত্তর সম্পত্তিতে আমার কোন মালিকানা নেই। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪০ বছর আগের বিরোধকে সামনে তুলে আনা হচ্ছে। দলের যে পক্ষটি এ নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন তা এ শহরবাসী ভাল করেই জানেন এবং চেনেন। দলের ভেতরে থেকে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেখে আমি নিজেই হতবাক। যেখানে মেয়র আইভীর জিউস পুকুরে কোন মালিকানা নেই সেখানে বরংবার আমাকে জড়ানো একটি রাজনৈতিক অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বলছেন দখলকারীরা আমার আত্মীয় স্বজন। তবে যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলুন। সেখানে যেয়ে সমস্যার সমাধান করুন। কেন আপনারা হিন্দু সম্প্রদায়কে বিভক্ত করছেন? রাজনৈতিক এ অপকৌশলে যদি হিন্দু সম্প্রদায় পথভ্রষ্ট হয় তাহলে ক্ষতিতো হবে খোদ আওয়ামীলীগের। যারা খেলছেন তাদের চিরকালের স্বভাবই হচ্ছে অপকৌশলের মাধ্যমে সাধারন মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা। আজ যারা লম্বা লম্বা বক্তব্য দিয়ে বলছেন আমাকে টেনে হিচড়ে নামাবেন। তাদের কি সেই শক্তি কি তাদের রয়েছে? একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে টেনে হিচড়ে নামানো কি এত সহজ? চাইলেই কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত একজন মেয়রকে হাত দেয়া সম্ভব?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »