বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

নেই করোনা ভীতি কেনাকাটায় মহাব্যস্ত না’গঞ্জবাসী

নিউজ নারায়ণগঞ্জ / ৯ জন পড়েছেন
সোমবার, ৩ মে, ২০২১, ৪:০১ পূর্বাহ্ন

করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ উদযাপনে কেনাকাটায় মহাব্যস্ত নারায়ণগঞ্জবাসী। এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের পছন্দের জিনিসপত্র কিনতে। প্রতিটি মার্কেটেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তাড়না নেই। কিছু কিছু মার্কেটে পা ফেলার জায়গাও পাওয়া দুষ্কর।

নারায়ণগঞ্জের ফ্রেন্ডস মার্কেটে একজনের সঙ্গে আরেকজনের গা ঘেঁসে ঘেঁসে চলতে দেখা গেছে। অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদ শপিংয়ে মার্কেটে আসা শিশুদেরকেও মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, পহেলা মে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। প্রায় প্রতিটি মার্কেটে বিক্রিও হচ্ছে সন্তোষজনক বলে জানান বিক্রেতারা। ঈদ শপিংয়ে উপচেপড়া ভিড়ের কারণে বঙ্গবন্ধু সড়কে দেখা তীব্র যানজট।

করোনা মহামারিতেও নগরবাসী কিংবা জনসাধারণের মধ্যে যেন কোনো ধরনের করোনা ভীতি নেই। এই সংকটকালেও নিশ্চিন্তে ঈদের কেনাকাটা করছেন তারা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বেচাকেনা করতে হবে বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।

শনিবার (১ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের কাছে জনপ্রিয় ফুটপাত ছিল লোকে লোকরণ্য।

সরেজমিনে স্বাস্থ্যবিধি কেউ কেউ মানছেন আর কেউবা মানছেন না, যারা মানছেন না তাদেরকে বাধ্য করাররও যেন কেউ নেই।

রানু বেগম বের হয়েছেন সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মনে হয় করোনা কমে গেছে। অনেকেই তো বের হচ্ছেন। তাইতো আমরাও বের হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হয়েছি। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরবো। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

স্ত্রী ও দুই ছোট শিশু সন্তান নিয়ে ফুটপাতে ঈদের শপিং করতে এসেছেন আব্দুল করিম বাদশা। তিনি বলেন, ঈদের আগে গ্রামের বাড়িতে যাব। গ্রামে যারা আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের জন্য কিছু মার্কেট করতে এসেছি। এছাড়া ছেলে-মেয়েসহ আমাদের কেনাকাটাও করবো। তবে তিনি নিজেই দাবি করেন, এখানে আসা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মানুষের চাপের কারণে গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

ঈদের শপিং করতে এসেছেন জাকিয়া পারভিন। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও তো ঈদ করতে হবে। এ কারণেই কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘোরাঘুরি কম করছি, পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছি পছন্দের পোশাক।

ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেন বিল্লাল। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে লকডাউনে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন হয় বসতে পারছি। তবে আজ ক্রেতা অনেক। বিক্রিও মোটামুটি আগের দিনের তুলনায় ভালোই হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ভিড় বেশি। কিন্তু বেচা-বিক্রি অনেক কম। যে পরিমাণ জনসমাগম রয়েছে সবাই যদি একটি করে জিনিসও কিনতেন তাহলে আমাদের দোকানের জিনিসপত্র অনেক কমে যেত। কেনাকাটা হচ্ছে কম, অধিকাংশই শুধু জিনিসপত্র দেখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »