বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

পশু শুন্যতায় নারায়ণগঞ্জের কোরবানীর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ২৯ জন পড়েছেন
আপডেট : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০, ৫:৫১ অপরাহ্ন

মুন্সিগঞ্জের খামারি সোহরাব হোসেন। নারায়ণগঞ্জের হাটগুলোতে গরু নেই শুনে সকাল ৯টার দিকে বিশাল আকারের দু’টো গরু নিয়ে এসেছেন। দুই ঘন্টার মধ্যেই ২০ মন ওজনের ‘শাহী’ নামের গরুটি বিক্রি হয়ে গেছে। প্রায় ৩০ মন ওজনের ‘তেজী’র দর নিয়ে কষাকষি চলছে ক্রেতার সঙ্গে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের পাঠানগর এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটে এমন চিত্র। বিশাল জায়গাজুড়ে এই হাটে গরু রয়েছে মাত্র ১১টি, ছাগল ৩টি এবং একটি ভেড়া নিয়ে এসেছেন স্থানীয় এক খামারি। হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকজন জানান, কাল রাত ১১টার মধ্যেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির এবার গরুও কম এসেছে বলে জানালেন তারা। প্রতি বছর এই হাটে ১৪০০ গরু ওঠে। এবার ৫০০’র মতো গরু এসেছে। একই অবস্থা নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য হাটগুলোর।
পাঠাননগরের অস্থায়ী হাটের কাউন্টারে বসা রাসেল বলেন, নারায়ণগঞ্জে বেশিরভাগ বেপারীই আসে সিরাজগঞ্জ থেকে। বন্যার কারণে অনেকেই তাদের গরু কসাইয়ের কাছে বেইচা দিছে। আবার নারায়ণগঞ্জে করোনার প্রকোপ বেশি থাকায় ভয়েও অনেকে আসে নাই।
তিনি বলেন, প্রথম কয়দিন দাম কম ছিল। কিন্তু কালকে রাতে দাম বেশি গেছে। এখন সকালে তো কোন গরু নাই সেই হিসেবে দাম। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার নারায়ণগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবার ১৭টি হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। গতবার কেবল সিটি এলাকাতেই ২১টি অস্থায়ী হাটের ইজারা দেওয়া হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ৪টি এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২টি হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন হাটে গরু নেই। গত রাতেই বেপারীরা তাদের গরু বিক্রি করে চলে গেছেন। অলস সময় পার করছেন হাট কাউন্টারে বসা লোকজন। অথচ অন্যবার এই সময় হাটে নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত থাকে না বেপারী ও হাট পরিচালনায় নিয়োজিত থাকা লোকজনের।
মাইকে বলা হচ্ছিল, সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের আল সাবাহ্ বালুর মাঠের অস্থায়ী হাটে পর্যাপ্ত গরু আছে। ক্রেতারা যেন এই হাটে এসে ঘুরে যান। হাটে প্রবেশের পর দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। ওই হাটে মাত্র ৫টি গরু রয়েছে। ইতিমধ্যে একটি বিক্রি হয়ে গেছে। খামারিদের সাথে কথা হলে জানা যায়, তারা সবাই এই এলাকার। হাটে গরু নেই শুনে নিজেদের পালিত ষাড়, গাভী নিয়ে এসেছেন হাটে।
মাঝারি আকারের একটি গাভী নিয়ে আসা স্থানীয় খামারি ফরিদ বলেন, ‘হুনছি হাটে গরু নাই। লোকজন গরু কিনতে আইয়া ফিইরা যাইতাছে। দুইটা পয়সা লাভ করতাম আইছি।’
একই চিত্র ওই ইউনিয়নের বাদশা মিয়ার ভূমিতে বসা অস্থায়ী হাটের। হাটে ঢুকতেই দেখা যায়, প্রবেশমুখে বাঁধা আছে চারটি গরু। এখানেও স্থানীয় খামারিরা তাদের গরু নিয়ে এসেছেন। হাট থেকে ৯১ হাজার টাকা দিয়ে মাঝারি আকারের একটি গরু কিনলেন ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি। আকারের তুলনায় দাম বেশি পড়ছে জানিয়ে আবার তিনিই বললেন, ‘বেশি দাম পড়–ক। এই বাজারে কিচ্ছু করার নাই। দেখছেন না, কোন গরু নাই হাটে।’
কাশীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন অস্থায়ী হাটেও গরু নেই। সকালে গোগনগর এলাকা থেকে দুটো গরু নিয়ে এসেছেন এক খামারি। তার সাথে একটি গরুর দাম নিয়ে কষাকষি চলছিল এক ক্রেতার। দাম বেশি চাওয়াতে রেগে গিয়েছেন ক্রেতা। তার সাথে থাকা যুবক বলছিলেন, ‘তোমারে আগেই কইছিলাম রাইতে গরুটা কিন্নালাও। কথা তো হোনো নাই। এখন কিনো।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তামাকপট্টি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকার প্রথম বলছে গরুর হাট বসবো না। আবার বলছে বসবো, তাও সংখ্যায় কম। অনেক খামারি এতে বিব্রত হয়ে গেছে। যার ফলে তারা দূরে গরু নিয়ে আসে নাই। অনেকেই নিজ গ্রামের আশেপাশের হাটে গরু তুলছেন অন্যরা কসাইয়ের কাছে বেচে দিছেন। এই কারণে নারায়ণগঞ্জের হাটের এই অবস্থা।’ এই পর্যন্ত তিনটা হাট ঘুরেছেন কিন্তু কোথাও গরু নেই। নারায়ণগঞ্জে আর না খুঁজে রাজধানীর গাবতলী হাটে লোক পাঠাবেন বলে জানালেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইব্রাহিম টেক্সটাইল গার্মেন্টস মাঠের অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মো. শাহ্ আলম বলেন, গরু তুলনামূলক কম আসছে। কিন্তু ক্রেতার চাহিদাও বেশি ছিল। গরু না থাকলে কি হবে ক্রেতাও কিন্তু নাই। করোনার কারণে অনেকেই তো এইবার কোরবানি দিচ্ছেন না, যারাও দিচ্ছেন তারা আবার অনেকে মিলে দিচ্ছেন। ফলে গরু না থাকায় তেমন চাহিদার তৈরি হয়নি।


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »