বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন

প্রেস ক্লাব সম্পাদক সবুজের হকার বসতে দেয়ার প্রস্তাব!

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৪৭৮ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২১, ৮:০২ অপরাহ্ন
প্রেস ক্লাব সম্পাদক সবুজের হকার বসতে দেয়ার প্রস্তাব!

শহরের বৃহত্তম জনগোষ্ঠির বিপক্ষে অবস্থান নিলেন সদ্য নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক শরিফউদ্দিন সবুজ। তিনি সদর থানার ওসি শাহ জামানকে হকারদের ফুটপাথে বসতে দেবার অনুরোধ করেন। তিনি যুক্তি হিসেবে বলেন, করোনাকালীন সময়ে মানবিক কারণে হকারদের বসতে দেয়া উচিত। এরাতো বাংলাদেশেরই মানুষ। ৫ ফুট দুরত্বে একটি করে চৌকি দিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে হকারদের ফুট পাতে বসতে দিতে সদর থানার ওসিকে প্রস্তাব করেন।

 

এসময় উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন হকারের জন্য নগরবাসীর দূর্ভোগকে আমাকে সমর্থন করতে পারিনা। গত সোমবার নব নির্বাচিত প্রেস ক্লাব কমিটির সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়ের আগে সদর থানার ওসিকে এ প্রস্তাব করেন সম্পাদক শরিফউদ্দিন সবুজ। এসময় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম কোন মন্তব্য না করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন সবুজের দিকে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ক্লাবের নব নির্বাচিত সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, সভা শুরু হবার আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি বলছিলেন, কোনমতেই ফুটপাতে আর হকারদের বসতে দেয়া হবে না। হকার বিষয়ে কোন অনুরোধ তদবির মানা হবে না। ওসি শাহজামান খুব জোর দিয়েই কথাগুলো বলছিলেন। এমন সময় সাধারন সম্পাদক শরিফউদ্দিন সবুজ বলেন, হকারদের বসতে দেয়া উচিত। এমনিতেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ।

 

হকারদের বসতে দেয়া না হলে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব পড়বে। তারাতো এদেশেরই মানুষ, তাদেরও সংসার আছে। মানবিকদিক বিবেচনা করে তাদের ফুটপাতে বসতে দিতে সদর থানার ওসিকে অনুরোধ করেন। এসময় আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ওসিকে বলি কোন অবস্থাতেই হকারদের ফুটপাতে বসতে দেয়া যাবে না। আগে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ফুটপাতে হকার বসার পুরো প্রক্রিয়াই একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। কোন অবৈধ এক্রিয়াকে সরকারীভাবে বৈধ করার কোন সুযোগ নেই। হকারদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করতে আমি ওসি শাহজামানকে অনুরোধ করি। তিনি তার সম্মতি দেন। আমি বলি হকার উচ্ছেদ বিষয়ে জেলার সব পেশাদার সাংবাদিকরা আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

 

নব নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ সদস্য বিল্লাল হোসেন রবিন বলেন, সাধারন সম্পাদক শরিফউদ্দিন সবুজের হকারদের ফুটপাতে বসতে দেবার প্রস্তাবে আমি হতবাক হয়েছি। যেখানে নগরবাসী চায় হকারমুক্ত ফুট পাত সেখানে কেন এবং কিভাবে তিনি হকার বসতে দেবার কথা বলেন। হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে অপ্রীতির ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ঘটনায় সবুজ নিজেও আহত হয়েছিলেন।

 

কিন্তু হঠাৎ করে রক্তঝরাকে অস্বীকার করে তিনি কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে হকারদের পক্ষে অবস্থান নিলেন তা বুঝে উঠার মত জ্ঞান এখনও আমার মধ্যে জন্ম নেয়নি। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকই সবুজের এ মনোভাবের প্রতিবাদ করেন। তবে মুল সভায় হকার ইস্যুতে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের কঠোর অবস্থান আমার ভাল লেগেছে।

 

এ ব্যাপারে শরিফউদ্দিন সবুজ বলেন, ঐদিন ওসি বলছিলেন সমস্ত হকারদের আর বসতে দেয়া হবে না। আমার অবস্থানটা হচ্ছে হকারদের একটি সময় বেধে দেয়া হোক। ধরেন বিকেল ৬টা থেকে রাত ১১টা পয়ন্ত। তাহলে দিনের অফিসিয়াল টাইমের যে যানজটা তা কমলো। বা তাদের উপর দোষ পড়লো না। আবার তাদেরও সংসার চললো। এটা হচ্ছে এক নম্বর পয়েন্ট।

 

 

সেকেন্ড পয়েন্ট হচ্ছে শুক্রবার এবং শনিবার দিন সবকিছুই বন্ধ থাকে এই দুইদিন তাদের বসতে দেয়া। থার্ড পয়েন্ট হলো তারা (হকার) একটা ফুটপাতের দুই পাশেই বসে। ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে। এটা না করে যদি তারা একপাশে বসে ধরেন ৪ ফুট কিংবা ৫ ফুট দুরে বসে তাহলে আমরা যে কমপ্লেনগুলো করি আমরা হাটতে পারিনা, চলতে পারিনা। তাহলে আমাদের এই কমপ্লেনগুলোও থাকে না। এই হচ্ছে আমার অবস্থান। আমরা তাদের বাদ দিয়ে দিলাম এইভাবে আসলে এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে আমার মনে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »