বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০১:১২ অপরাহ্ন

পুরোন রূপে ফিরছে চিরচেনা নারায়ণগঞ্জ

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : / ২৭১ জন পড়েছেন
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০, ৪:৪৫ অপরাহ্ন
পুরোন রূপে ফিরছে চিরচেনা নারায়ণগঞ্জ

পোষাক তৈরী কারখানা (গার্মেন্ট)খুলে দেওয়ার পর থেকে হঠাৎ করেই যেন নারায়নগঞ্জের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। লকডাউনে থাকা বাসিন্দারা হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় নামছে।বাজারগুলোতো দেখা যায় মানুষের উপচে পরা ভীড়।শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার অলিগলি দেখলে বুঝার উপায় নাই দেশে করোনা আক্রান্তের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা এটি। সড়কে দেদারসে যানবাহন চলছে।

 

কিছু কিছু এলাকায় চিরচেনা যানজটের দৃশ্যও চোখে পড়েছে। অফিস আদালত, স্কুল কলেজ মার্কেট সবই বন্ধ। তবুও মানুষ কারণে অকারণে অযথা ঘুরাঘুরি করছে। বেশ কিছু দিন ধরে লকডাউনে শিথিলতা আনার পর গত কয়েকদিন ধরে এমন দৃশ্য এখন প্রতিদিনই চোখে পড়ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে যেখানে হু হু করে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব না মেনে অবাধে চলাচল করছে মানুষ। ১০ই মে থেকে আবার শপিংমল খুলে দেয়া হচ্ছে।

 

কেনাকাটা করার জন্য মানুষ দলবেঁধে শপিংমল গুলোতে ভীড় করবে। এতেকরে একজন থেকে অন্যজন সংক্রমিত হবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলেও অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করছেন, ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতিতে অন্তত পুরো রমজান মাস নগরবাসীকে লকডাউনে রাখলে কিছুটা হলেও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হত।

সরজমিনে জেলার সাইনবোর্ড,শিবু মার্কেট,কালির বাজার,চিটাগাংরোড,পাগলা,পঞ্চবটী,ফতুল্লা সহ আরও একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের পাশাপাশি নানা শ্রেণি পেশার মানুষ এখন ঘরের বাইরে বের হয়েছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমি ব্যবসায়ী, ভিক্ষুক, দিনমজুর, রিকশাচালকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।তাছাড়া সকাল বেলা দেখা গেছে সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে পায়ে হেটে দলবেধে গার্মেন্ট শ্রমিকরা ছুটছে নিজ নিজ কর্মস্থলে।গতকাল( বুধবার) বিকেলে ফতুল্লার বিসিকে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন পোষাক কারখানার ছুটির পর বিসিক সড়কে নানা বয়সী নারীরা ভীড় জমিয়েছে বিভিন্ন কসমেটিকস প্রশাধনীর দোকানগুলিতে।এছাড়া কোনো প্রকার দুরুত্ব বজায় না রেখেই গাদাগাদি করে তারা বিভিন্ন কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে।

 

এছাড়া রমজান মাস থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতেও গার্মেন্টস ফেরত শ্রমিকদের ভীড় করতে দেখা গেছে।

এছাড়া বিভিন্ন বাজারগুলো দেখা যায় বড় বড় বাজারে ক্রেতা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা। ভয়ের বিষয় হলো দোকানি ক্রেতা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

ফতুল্লা থানা এলাকার জুয়েল আরমান নামক এক ব্যক্তি জানায়, এতদিন বাজারে ক্রেতাদের এত চাপ ছিল না। রোজার মাস আসতেই চাপ বেড়েছে। ক্রেতা যেমন বেড়েছে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বেড়েছে। প্রয়োজনে বাজারে আসতে হয়। ভয় লাগে এত মানুষের মধ্যে কে আক্রান্ত আর কে আক্রান্ত না সেটা জানিনা।

পঞ্চবটী মুসলিম নগর এলাকার অটো রিক্সা চালক হুমায়ুন বলেন, একদিন বের না হলে খাবার জোটে না। ঘরে স্ত্রী সন্তানরা আছে। তাই ঝুঁকি নিয়েই বের হই।ফতুল্লার ফল বিক্রেতা কালাম জানায়, রমজান আসতেই সড়কে মানুষের চাপ বাড়ছে। যানবাহন চলাচলও বেড়েছে। আগের চেয়ে বর্তমানে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো হবে।রেল লাইন বটতলা এলাকার ভ্যান চালক বাচ্চু মিয়া বলেন, করোনা এসে আমাদের মত গরীবের পেটে লাথি দিছে। কাজকর্ম নাই তাই আয় বন্ধ। চার জনের সংসার আয় ছাড়া কিভাবে চলবে? স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে হলেও টাকা লাগে। হাতের গ্লাবস, সেনিটাইজার, মাস্ক এসব কই পাবো।শিবু মার্কেট এলাকায় সিএনজি চালক বাবুল মিয়া বলেন, দুদিন ধরে সড়কে যাত্রী অনেক। বাস চলছে না তাই সিএনজি, রিকশা- অটো রিক্সার ওপর চাপ বেড়েছে। ফতুল্লা রেল স্টেশন বাজারের এক সবজি বিক্রতা বলেন, এই বাজারে কেউ কিছু মানে না।প্রতিদিন বাজারেরব মধ্যে হাজার হাজার মানুষ আসা যাতায়াত করে। তাছাড়া সন্ধ্যা নামতে না নমতেই বাজারের শেষ ভাগে মাদকাসক্তরা ভীড় করে চুটিয়ে আড্ডা দেয়।কেউই মাস্ক, গ্লাবস পরে না।

আরও পড়ুন : গত ২৪ ঘন্টায় নারায়নগঞ্জে করেনায় আক্রান্ত ৩৩ জন মৃত্যু-১

শহরের কালির বাজারের এক কাপড় বিক্রেতা জানান,রমজান শুরু থেকে প্রতিদিনই তিনি পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে রেডিমেট পোষাকের দোকানটি খুলেন।প্রথম দু- তিনদিন বেচাকেনা তেমন একটা না হলে ও সময় বাড়ার সাথে সাথে বেচাকেনা ও বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি আরো জানান, পুলিশ এবং ভ্রামমান আদালতের ভয়ে দোকানের চারটি সার্টারের জায়গায় মাত্র একটি সার্টার খোলা রেখে বেচাকেনা করছে।তবে তা সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত।একই অবস্থা দেখা গেছে আশপাশের বিভিন্ন দোকানগুলোতে।

এদিকে বিভিন্ন শপিং মলে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ১০ই মে দোকান খোলার যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।অনেক ব্যবসায়ীরা দোকানের মালামাল সংগ্রহ ও দোকান গোছানোর কাজ শুরু করেছেন


এ বিভাগের আরও খবর

ফেসবুকে আমাদের যারা বন্ধু

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »