সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

ব্যবসায়ীদের আরও সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেলিম ওসমান

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : / ৩০ জন পড়েছেন
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:১১ পূর্বাহ্ন

খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহকৃত তহবিলের দ্বিতীয় ধাপে আরো ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রথম ধাপে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহিত তহবিলের ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। যা কিনা গত ১৯ জুলাই এমপি সেলিম ওসমানের আহবানে দ্বিতীয় ধাপে উক্ত তহবিল সংগৃহিত হয়েছিল।

মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে প্রথম ধাপে সংগৃহিত ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার মধ্যে ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে।

মত বিনিময় সভার পূর্বে তল্লা মসজিদে বিস্ফোরনে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থ্যতা কামনা করে দোয়া করা হয়।

যার মধ্যে মডেল ডি ক্যাপিটেল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২৫ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিকেএমইএ সহ সভাপতি(অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক আশিকুর রহমান, সাইফুল খন্দকার, কবির হোসেন, নন্দ দুলাল সাহা, শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু, সেলিম মাহাবুব, ইমরান কাদির তূর্য, নাসিমুল তারেক মঈন সম্মিলিত ভাবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেট্রো নিটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল পোদ্দার ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ড্রিম হলিডে অ্যাডভ্যাঞ্চার পার্কের স্বত্তাধিকারী প্রবীর কুমার সাহা ১০ লাখ টাকা, আটা ময়দা মিলক মালিকদের মধ্যে মতিউর রহমান মতি, জসিম উদ্দিন মৃধা, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সোহাগ, আব্দুর রশিদ ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম সম্মিলিত ভাবে ৬ লাখ টাকা সহ ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা ও থ্রিস্টার ফার্ম হাউজ এর স্বত্তাধিকারী মিসেস নাসরিন ওসমান ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন।

মত বিনিময় সভায় এমপি সেলিম ওসমান বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে শান্তিরচরে নীটপল্লী নির্মানের প্রস্তাবনা রাখলাম তিনি ২১ দিনের মাথায় অনুমোদন দিলেন। সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলো। খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করনের কাজ শুরু হলো কিন্তু সব কিছু কি কারনে আটকে আছে আমি জানিনা। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের চিকিৎসা সেবার অবস্থা শুনে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের উন্নয়নে নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অনেকেই আজকে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মানের দাবী করছেন। আমি নারায়ণগঞ্জ কলেজের দায়িত্ব নিয়ে কলেজের ফান্ডে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করেছি। ১০তলা ফাউন্ডেশনে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার থেকে সহযোগীতা নিয়ে প্রতিটি কক্ষই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং লিফটি লাগানো হয়েছে। হয়তো এখানকার অনেকেই সেই ভবনটি দেখেননি। এমন একটি ভবন ঢাকার অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতেও নাই। অনেক স্বপ্ন ছিল সেটাকে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন এ.কে.এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয় নামে যেটা জালকুড়িতে রূপায়নে হওয়ার কথা ছিল। যেটা নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলেই এটাকে দাড় করাতে পারেন। আপনারা সবার সাথে আলোচনা করেন। আলোচনার অনেক সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে। নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ও হবে মেডিকেল কলেজও হবে।

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভারভিউ ও হাবিব কমপ্লেক্স নামে পাশাপাশি দুটি মার্কেট আছে। এছাড়ও নয়ামাটি, উকিল পাড়া এসব জায়গায় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে। তাহলে রানা প্লাজায় কি হয়েছে এর থেকে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা হবে। অথচ নারায়ণগঞ্জের কল-কারখানা অধিদপ্তর কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বিপদ হলেই ছুটাছুটি করবেন। বিপদ হওয়ার আগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ছেলে মেয়ে লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় যায়। আমাদের সকলের একটাই দাবী। সকল ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে একটা ফান্ড গঠন করেন। এরপর নারায়ণগঞ্জে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন সেটা যার নামেই হোক। আমরা সকল ব্যবসায়ীরা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সবাই আপনার সাথে থাকবো।

বিকেএমইএ এর সাবেক সহ সভাপতি মনসুর আহম্মেদ বলেন, এমপি সেলিম ওসমান একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। উনি এমপি হওয়ার পর ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে এলাকার যে উন্নয়ন করেছেন সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন এমপি করেনি। উনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবার ফেরত দিয়েছেন সেটাই একটা ইতিহাস। সেলিম ওসমান মানে একটা ট্রাস্ট।

বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা বলেন, এ.কে.এম সেলিম ওসমান আমাদের কাছে উনি একজন ব্যবসায়ী নেতা। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে আবার ফেরত দিয়েছেন এতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। উনার পক্ষে সম্ভব ১ ঘন্টার নোটিশে শত শত ব্যবসায়ীকে একত্রিত করা। নারায়ণগঞ্জের অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আপনার নেতৃত্বে বৃহত কোন কাজ শুরু করা হলে ব্যবসায়ীরা আপনার পাশে থাকবে যা কিনা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাজে আসবে।

বিকেএমইএ এর প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের ব্যবসায়ীদের প্রিয় নেতা সেলিম ওসমানের আহবানে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসেছেন। উনার নেতৃত্বে খানপুর হাসপাতালের উন্নয়ন কোথা থেকে কোথায় গিয়ে পৌছেছে তা সবাই দেখেছেন। এছাড়াও উনি হাসপাতালের উন্নয়নে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটি ইতিহাস হতো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া সহযোগীতার টাকা ফেরত দিয়েও তিনি আরো একটি ইতিহাস গড়েছেন। উনি একজন দক্ষ নেতা উনার নেতৃত্বে আমরা একতা বদ্ধ থাকতে পারলে ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে আরো অনেক উন্নয়ন হবে।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রাশেদ সারোয়ার, বিকেএমইএ এর পরিচালক মঞ্জুরুল হক, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য অ্যাভোকেট হোসেনে আরা বাবলী, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা,নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সিনিয়ির সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য গত ৩১ আগস্ট শোভন গ্রুপের আবু আহম্মেদ সিদ্দিক ১০ লাখ, ফকির নীটওয়্যার এর ফকির আক্তারুজ্জামান ১০ লাখ, ফকির অ্যাপারেলস এর ফকির মনিরুজ্জামান ১০ লাখ, টার্গেট গ্রুপের তানভীর আহম্মেদ টিটু ১০ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সাবেক সহ সভাপতি রাশেদ সারোয়ার ৫ লাখ, মডেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামান ৫ লাখ, এসপি গার্মেন্টস এর সুবল চন্দ্র সাহা ৫ লাখ, হাজী হাসেম স্পিনিং এর মোহাম্মদ সোলায়মান ৫ লাখ, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টের সভাপতি লিটন সাহা ৫ লাখ, আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সহ সভাপতি আমিনুর রশিদ ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক রতন সাহা ৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া সাজনু ৫ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক কবির হোসেন ২ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা ৩ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক নাসিম উল তারেক মঈন ৩ লাখ, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব এর পরিচালক ইদি আমিন ইব্রাহিম খলিল ১ লাখ, বিকেএমইএ এর পরিচালক আশিকুর রহমান ৩ লাখ, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ৫ লাখ, মোহাম্মদ হাতেম ৫ লাখ, দীপক কুমার সাহা ৫ লাখ, জসিম উদ্দিন ২ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া ১ লাখ টাকা সহ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত প্রদান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনা শুরু হওয়ার পর ২৮ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এমপি সেলিম ওসমান খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের উন্নয়ন এবং ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়দের অস্থায়ী আবাসন, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন খাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ৮৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয় করেন।


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »