বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

আইভীর কদর

নিজস্ব প্রতিবেদক  / ৮৯ জন পড়েছেন
আপডেট : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০, ৩:০৫ পূর্বাহ্ন
আইভীর কদর

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পার্ক, হাতিরঝিল আদলে লেক, বাবুরাইল খাল সংস্কার সহ শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে বন্দরের অংশে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। শহরের অনেক এলাকার লোকজনদের আক্ষেপ যে আইভী শহরের তুলনায় বন্দরে সড়ক প্রশস্থকরণ সহ প্রচুর উন্নয়ন কাজে হাত দিয়েছেন। এছাড়া তিনি নিজ বাড়ি দেওভোগের আশেপাশকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ নিয়ে তখন আইভীর ললাটে কিছুটা আক্ষেপের তিলক লাগানোর চেষ্টা তখন শহরের গঞ্জেআলী খাল সংস্কার করে সেখানে লেক বানানো ও হাজীগঞ্জ কেল্লা সংরক্ষণে আইভীর তৎপরতাকে ভিন্ন চোখেই দেখছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এতদিন নানা কারণেই আইভীকে শহরের উত্তরাঞ্চলে তেমন দেখা যায়নি। বিশেষ করে চাষাঢ়া, ডনচেম্বার, খানপুর, নগরখানপুর, তল্লা, হাজীগঞ্জ এলাকাতে। এবার সেখানেই তৎপর আইভী। ফলে সেখানেও বাড়ছে আইভীর কদর।

নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেল গেট এলাকা দিয়েই মূলত শহরকে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল ভাগ করা হয়। এ দুটি ভাগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিও আবর্তিত।

শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় জনপদ খানপুর এলাকার অনেকেই বলেন, এ এলাকাতে আগে আইভীর তেমন পদচারণা ছিল না। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ৬ জুন খানপুর বৌবাজার এলাকায় জাতীয় পার্টির কতিপয় নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েছিলেন আইভী। সেদিন শহর জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল কাদিরের সাথে যুবলীগ নেতা জাবেদের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আব্দুল কাদিরের ক্যাডাররা জাবেদকে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে আইভী বৌবাজার এলাকায় জাবেদের বাড়ীতে তাকে দেখতে যান। এসময় জাতীয় পার্টির ক্যাডার নূর মোহাম্মদ নূরা তার বাহিনী নিয়ে এসে আইভীকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তার সামনেই যুবলীগ নেতা জাবেদের উপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় নূরা ও তার বাহিনী। মেয়র অবরুদ্ধ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ওই সময়ের কাউন্সিলর খন্দকার মাকসুদুল আলম খোরশেদ, কামরুল হাসান মুন্না ও সংবাদ কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে জাতীয় পার্টি ক্যাডার নূরা ও তার বাহিনী পালিয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ১ ঘন্টা পর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে উপস্থিত হয়।

গত ২ জুলাই বিকেলে মেয়র আইভী সরেজমিনে যান খানপুর সরদারপাড়া এলাকাতে। সেখান থেকে তিনি রেললাইন এলাকাতে যান গঞ্জেআলী খালের পুনখনন কাজ পরিদর্শনে। ওই সময়ে সেখানে শত শত নারী পুরুষ এসে জড়ো হয়। আইভীর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। সেই সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুরও প্রশংসা করেন। কারণ শুরু থেকেই শকু এ খাল উদ্ধারে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

আইভীকে কাছে পেয়ে এলাকাবাসীও জানতে চান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ওই সময়ে আইভী বলেন, ‘চাষাঢ়া থেকে রেল লাইনের উভয় পাশে ৭০ ফুট পর্যন্ত সরকারি জায়গা। এই জায়গা উদ্ধারে আমি কোনো নোটিশ দিব না। সরকারি জায়গা এতদিন দখল করে খেয়েছে। আমি নোটিশ দিতে রাজি না। মাপ দেওয়া হবে। সরকারি জায়গা যতটুকু পরেছে ততটুকু জায়গা পর্যন্ত দাগ দেওয়া হবে। আমি তিনদিনের সময় দিব। এই তিনদিনের মধ্যে যদি তাঁরা না সরে। আমি ভেঙ্গে দিব। চাষাঢ়া থেকে পুরাটাই ভেঙ্গে দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন প্রথম থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রচুর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এমন কোন ওয়ার্ড নেই যেখানে ড্রেন নাই। ড্রেন করেছি কিন্তু খালগুলোর কি অবস্থা? খালগুলোকে উদ্ধার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। শহরের মধ্যে এই খালটিই বাকি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি দখলে ছিল। যখন পৌরসভা ছিল তখন আমি একবার দখল মুক্ত করেছিলাম। খালের পাশেই বিশাল পাইপ ড্রেন আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাইপ ড্রেনটিতে মাটি জমে কয়েকদিন পর পর বন্ধ হয়ে যায়। এখন এই খালটিকে শেখ রাসেল পার্কের মত করে দিব। গাছ লাগাবো। জায়গা থাকলে পার্কের মত করে দেওয়া হবে।’

মেয়র আইভীর সেই আশ্বাসে যে নগরবাসীর ভরসা রয়েছে এর প্রমাণ তখনই দিয়েছেন এলাকাবাসী। আইভী যখন খাল পরিদর্শনে এসেছিলেন তারও কয়েক ঘণ্টা আগেই শত শত এলাকাবাসী উপস্থিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র মেয়রকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য। আইভীর ওই বক্তব্যের পর এলাকার লোকজনও সাধুবাদ জানান ও করতালির মাধ্যমে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এদিকে হাজীগঞ্জ দুর্গ নিয়েও তৎপর আইভী। অভিযোগ আছে, কালের বিবর্তনে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দুর্গের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। গত ২৪ অক্টোবর এর আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমিটি যৌথভাবে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও প্রতœতত্ত¡ অধিদফতর।

এদিকে আবারো কেল্লার চারপাশ দখল হয়ে যাচ্ছিল। ২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত গঞ্জে আলী শাহ খাল পুনরুদ্ধার ও পুনরায় খনন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, ‘যারা হাজীগঞ্জ কেল্লা দখল করেছে তাঁরা খুব খারাপ কাজ করেছে। মামলার কারণে কোর্ট থেকে স্টে অর্ডার এসেছে। করোনার কারণে তিন মাস পিছিয়ে গেছে। কিন্তু হাজীগঞ্জ কেল্লার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। এই জায়গার মালিক একমাত্র সরকার। সেই জায়গা কিভাবে দখল হয়েছে সেই ইতিহাসে যেতে চাই না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশেন সেটি দখল মুক্ত করেছে। সেখানে মাঠ করে দিতে চাই, ফুলের বাগান করে দিতে চাই, বাগান করে দিতে চাই। মানুষ যেন নি:শ্বাস নিতে পারে।’

মেয়র আইভী আরো বলেন, ‘বিশুদ্ধ বাতাসের অনেক অভাব। কোভিড-১৯ রোগীরা শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছে না। এই বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য আমি হাজিগঞ্জ কেল্লাকে উদ্ধার করবোই। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হোক। মা-খালারা যেন সেখানে গিয়ে বসতে পারে, বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে পারে। আমি সেই ব্যবস্থা করবই। এই মুহূর্তে তাঁরা যে অবৈধ দখল করেছে। আমি দুই একদিনের মধ্যে সেটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেবো।


এ বিভাগের আরও খবর

ফেসবুকে আমাদের যারা বন্ধু

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »