শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

মিলল দুই লিকেজ : তিতাসের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত :

নিউজ নারায়ণগঞ্জ : / ৩২ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাস লাইনের লিকেজ খুঁজতে মাটি খোড়াখুড়ি করতে গিয়ে মসজিদের উত্তর পাশের পাইপে দুটি লিকেজ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মসজিদের সম্মুখে, উত্তর ও পূর্ব পাশে চারটি স্থানে খোড়াখুড়ি শুরু করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। বেলা সোয়া ৩টায় খোড়াখুড়ির একপর্যায়ে মসজিদের উত্তর পাশে খোড়াখুড়িতে কর্মরত শ্রমিকরা মাটির তিন স্তরের নিচে ৪ ফুট গভীরে পৌনে ১ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপে দুটি সংযোগ লাইনে দুটি পাইপের দুটি লিকেজের অস্তিত্ব খুঁজে পান। দুইটি পাইপের ছিদ্রগুলো আকারে বড়। শ্রমিকরা বলছেন এটি দিয়ে অনেক প্রেসারে গ্যাস বের হয়।
তবে এ লিকেজ বিষয়ে এখনও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তিতাসের স্থানীয় অফিসের ডিজিএম মফিজুল ইসলাম। তিনি বলছেন, খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হোক। তারপর বিস্তারিত বলা যাবে।
তিতাসের রেডিও ডিরেক্টর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্যাস পাইপ লিকেজ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য শ্রমিকরা সকাল ৭টা থেকে কাজ শুরু করেন। লিকেজ ধরা পড়া অংশটি মসজিদের উত্তর পাশের মসজিদ ঘেষা রাস্তার অংশ।
লিকেজ দুইটি পাবার পর তিতাস কর্তৃপক্ষ একে অপরকে বলেন, তিতাসের নক্সা অবস্থানের সঙ্গে এ লাইন দুইটি মিলছে না। এটি পৌনে ১ ইঞ্চি ব্যাসের শাখা লাইন। এরপর তারা মূল সংযোগ লাইন খোঁজা শুরু করেন। কিন্তু গতকাল সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুল সংযোগ লাইন তারা খুঁজে পাননি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় মসজিদে বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংগঠিত হওয়ার অভিযোগে ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন, ফতুল্লা জোন) অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী, প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এস এম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো: মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো: আইউব আলী, সাহায্যকারী মো: হানিফ মিয়া, ও প্রকর্মী মো: ইসমাইল প্রধান। তিতাসের এমডি আলী মো. আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পরদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছিলেন তিতাসের এমডি আলী মো. আল মামুন। এ সময় তিতাসের গাফিলতির কারণেই মসজিদে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
মুসল্লিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সেদিন তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাসের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুসল্লিদের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সর্বশেষ ইমরান (৩০) নামে আরেকজন মারা গেছেন। এ নিয়ে বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও ১১ জন।
নিহত ২৭ জন হলেন-মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫), সাব্বির (২২), জুনায়েদ (৭), জামাল (৪০), জুবায়ের (১৪), হুমায়ূন কবির (৭০), মোস্তফা কামাল (৩৪), ইব্রাহিম (৪৩), রিফাত (১৮), জুনায়েদ (১৭), কুদ্দুস বেপারী (৭২), রাশেদ (৩০), জয়নাল (৫০), মাইনুদ্দিন (১২), নয়ন (২৭), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), রাসেল (৩৪), মো. বাহাউদ্দীন (৫৫) মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল মালেক (৬০), মিজান (৩৪), ফটো সাংবাদিক নাদিম আহমেদ (৪৫), মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ শামীম হোসেন (৪৮), জুলহাস ব্যাপারী (৩০), মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫), মনির ফরাজী (৩০) ও আবুল বাসার মোল্লা (৫১) ও ইমরান (৩০)।


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »