শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের সংখ্যা কমে আসছে : শামীম ওসমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ১২৮৪৩ জন পড়েছেন
রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের সংখ্যা কমে আসছে : শামীম ওসমান

রাজনীতিতে বর্তমানে ত্যাগী নেতাদের সংখ্যা কমে আসছে এবং অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কদমরসূল এলাকায় জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ এর স্মরণসভায় বক্তব্যে শামীম ওসমান এ মন্তব্য করেন।
শামীম ওসমান দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এখন অনেকেই রাজনীতি করেন মঞ্চের পাশে এসে নিজের চেহারা দেখানোর জন্য। এবং সেই চেহারাকে পুঁজি করে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় তারা রাজনীতি করেন। তিনি বলেন, আমাদের এই সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে খারাপ মানুষ চাটুকারিতার মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের কারণে ভালো মানুষরা পিছিয়ে পড়ছেন। রাজনীতি, ব্যবসা ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের সব ক্ষেত্রেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমি স্পষ্টভাষী লোক। স্পষ্ট ভাষায়া কথা বলতে চাই।
আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা প্রয়াত শুক্কুর মাহমুদের স্মৃতিচারণ করে শামীম ওসমান বলেন, সমাজের বিভিন্ন জায়গায় যেমন ভালো মানুষ এবং খারাপ মানুষ আছেন, তেমনি রাজনীতিতেও ভালো-খারাপ মিলিয়ে আছে। শুক্কুর ভাইয়ের সততা ও নানা গুণের কারণে আমি রাজনীতি জীবনের শুরু থেকেই তাঁকে পছন্দ করি। রাজনীতিতে লুটপাট আর মুখোশধারীদের ভীড়ে শুক্কুর মাহমুদের মতো রাজনীতিবিদদের চলে যওয়া শূণ্যতা সৃষ্টি করে। রাজনীতিতে এই শূণ্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন প্রধান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনুসহ দলীয় অন্যান্য নের্তৃবৃন্দ। স্মরণসভা শেষে শুক্কুর মাহমুদের রুহের মাগফেরাত করে দোয়া করা হয়।
নিজের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার জন্য আমি রাজনীতিতে আসি নাই। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে নিজের হাতে পোস্টার লিখেছিলাম। আমাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দেওয়া হলো। এখানে অনেক পোড় খাওয়া নেতা আছেন যারা আওয়ামীলীগকে ধারণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন। কিন্তু কোনো পদ পদবী নেই। তাদের ভেতর চাপা একটা অভিমাণ আছে। এই আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য ২১ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন চারিদিকে দেখি কেবল আওয়ামীলীগ আর আওয়ামীলীগ। আর কোনো লীগ দেখি না। কিন্তু সেদিন আওয়ামীলীগের অনেক অভাব ছিল। সেইদিন এত মানুষ ছিল না।
নিজের বড় ভাই শহর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতিতে এসে পকেটে টাকা ভরা খুব সহজ। কিন্তু পকেট থেকে টাকা বের করে দেওয়াটা কষ্টের। যদি সেটা হয় শ্রমের টাকা, তাহলে আরও বেশি কষ্টের। ঘুষের টাকা খরচা করা যায় রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করার জন্য। নারায়ণগঞ্জে অনেকেই একসময় ছিলেন, তাদের অনেকেরই কিছু ছিল না। হিন্দুদের অনুষ্ঠানে যখন যাই, তখন কেউ বলে অমুকে অমুক পুকুর দখল করেছে, অমুকে বাড়ি দখল করেছে। কারো বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে চাই না। তবে আমার বাই সেলিম ওসমানকে সব সময় দেখেছি নিজের অর্থ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, প্রতিষ্ঠাসহ মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে। আমি আমার নেত্রীকে বলেছিলাম, আপা তাকে থামান। তখন নেত্রী বলেছিলেন, এটাই সাদগায়ে দুনিয়া। এটাই ওর সাথে যাবে। এটাই সঠিক পথ। সেদিন নেত্রীর কথায় আমি অভিভূত হয়েছিলাম।
স্মরণসভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মেলিম ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বক্তব্য দীর্ঘায়িত না করে সংক্ষিপ্ত কথা বলে বক্তব্য শেষ করেন। প্রয়াত শুক্কুর মাহমুদকে সৎ ও ভারো মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে সেলিম ওসমান বলেন, শুক্কুর মাহমুদের অর্থায়নে তার নিজ এলাকায় একটি মসজিদ নির্মানের কাজ শুরু হয়েছিল। তিনি কাজটি সমাপ্ত করে যেতে পারেন নি। তবে আগামী রমজান মাসের আগেই সেই মসজিদটির নির্মান কাজ শেষ করে দেয়ার আশ্বাস দেন সেলিম ওসমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »