শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

৩তদন্ত কর্মকর্তাকে ফের সশরীরে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৩৪ জন পড়েছেন
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
৩তদন্ত কর্মকর্তাকে ফের সশরীরে তলব

নারায়ণগঞ্জে কথিত অপহরণের পর হত্যা ও গুমের শিকার মোঃ মামুন নামে এক যুবকের ৬ বছর পর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় মামলার ৩ তদন্ত কর্মকর্তাকে ফের আদালতে সশরীরে তলব করেছে আদালত। রোববার মামলাটির ধার্য তারিখে ওই ৩ কর্মকর্তা লিখিত ভাবে আদালতের কাছে তাদের তদন্তে ভুল-ভ্রান্তির কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস ওই ৩ কর্মকর্তার লিখিত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ না করে আগামী ৫ নভেম্বর এ ব্যাপারে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন।

এদিকে গত ২ অক্টোবর এই মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওই দিনই কথিত অপহরণ খুন ও গুমের শিকার মামুন আদালতে সশরীরে এসে উপস্থিত হয়। ওই সময় আদালত অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদের জিম্মায় ভিকটিম মামুনকে প্রদান করে। পরে রোববার মামলার ধার্য তারিখে আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল আদালতকে লিখিত ভাবে জানান, যেহেতু যাকে অপহরণের পর খুন ও লাশ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই ভিকটিমই জীবিত ফিরে আসায় এই মামলার চার্জগঠনের কোন প্রয়োজনীয়তা বা যৌক্তিকতা নেই।

 

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ৫ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন এবং ওই তারিখে মামলার ৩ তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জলকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন।

মামলাটির আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল বলেন, রোববার মামলার এহাজারভুক্ত আসামী তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং মামা সাত্তার মোল্লার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের তারিখ ধার্য ছিল। যেহেতু ভিকটিম জীবিত ফিরে এসেছে এবং আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে তাই এই মামলা চলার কোন যৌক্তিকতা নেই বলে আদালতে লিখিত আবেদন দেই।

 

আদালতে সেই আবেদন গ্রহণ করেছেন। এই মামলার ৩ কর্মকর্তা তাদের তদন্তে ভুল-ভ্রান্তির জন্য আদালতের কাছে লিখিত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আদালতে সেটি গ্রহণ না করে ৫ নভেম্বর সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গতকাল বাদি পক্ষের কোন আইনজীবী বা বাদি পক্ষের কেউ আদালতে উপস্থিত হননি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন নামে এক যুবককে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ এনে ঘটনার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন নিখোঁজ মামুনের বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়।

আরও পড়ুন: বক্তাবলীতে ঈদগাহ ময়দানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

 

তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ করা হয়েছিল। মামলায় আসামী করা হয়েছিল, তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং মামা সাত্তার মোল্লাকে। তাদের প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি পুলিশ।

সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে ৬ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। সাক্ষী করা হয়েছিল ২১ জনকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »