সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

সদর থানার ওসি ও নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার নথিসহ আদালতে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৬০ জন পড়েছেন
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০, ৪:১৪ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের স্কুল ছাত্রী জিসা মনি অপহরণ মামলায় নাটকীয় ঘটনায় সদর মডেল থানার ওসি মোঃ আসাদুজ্জান ও মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাইকে আদালত তলব করেছে। জিসা মনি বেঁচে থাকলেও তিন আসামি কেন ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে মামলার এজাহার ও জবানবন্দির নথিপত্রসহ তাদের স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক কাওছার আলম এ আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী সোমবার এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া জিসা মনির স্বামী গ্রেফতারকৃত ইকবালসহ কারাগারে থাকা তিন আসামীর একত্রে জামিন ও রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার আদেশ দেন আদালত।
এ সময় আদালত জানায়, ভিকটিম যেহেতু বেঁচে আছে সুতরাং হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাছাড়া ধর্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। গ্রেফতারকৃত তিন আসামীরা কেন হত্যা ও ধর্ষণের জবানবন্দি দিয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে আগামী দুই কার্য দিবসের মধ্যে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুনকে নির্দেশ দেয়া হলো।
আগামী সোমবার চার আসামীকে একত্রে আদালতে উপস্থিত করে রিমান্ড ও জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামীরা যদি নতুন করে আবারও জবানবন্দি দিতে চায় তাহলে সেই ব্যবস্থাও করবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই স্কুলছাত্রী জিসা মনি (১৪) নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই সদর মডেল থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। ওই দিনই তাদের গ্রেফতার করা হয়। দুইদিন পর বন্দর উপজেলাল একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়।
গত ৯ আগস্ট পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে আসামীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নিখোঁজের ৫১ দিন পর গত ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকা থেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জিসা মনি। বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ইকবাল নামের এক যুবককে বিয়ে করেছে বন্দর রেললাইন এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকে। পরে পুলিশ তার কথিত স্বামী ইকবালকে গ্রেফতার করে সেই অপহরণ মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত করে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেয়া আসামীদের জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দেখা দেয়।

এদিকে সদর থানা ওসি আসাদুজ্জামান জানান, তিনি ৩ আগষ্ট থেকে ৮ আগষ্ট পর্যন্ত  ছুটিতে ছিলেন। এ সময়টাতে তিনি তার গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। এসময় দায়িত্বে ছিলেন ওসি(তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় থানায় যোগ দিয়েছেন। রিমান্ড প্রক্রিয়ার সময় তিনি তার কর্মস্থলে ছিলেন না। পুরো প্রক্রিয়াটিতে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »