বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলা: আজ রিমান্ড শুনানী মাদক সম্রাট টাইগার ফারুক কারাগারে

নিউজ নারায়ণগঞ্জ / ৯ জন পড়েছেন
মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১, ১:০৬ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জের চিহ্নিত মাদক সম্রাট কথিত যুবলীগ কর্মী টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার তার রিমান্ড শুনানী। এরআগে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি চাঁদাবাজির মামলায়  ৭দিনের রিমান্ড আদেবন করে সোমবার বিকালে আদালতে হাজির করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিন মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করে আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এ এস আই রোকনুজ্জামান।

বহু অপকর্মের হোতা টাইগার ফারুককে রোববার (২ মে) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি টিসি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে হাজতে রাখা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ি।

সিদ্ধিরগঞ্জে হিরাঝিল এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মহসিন হোসেন রানা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫। এই মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ টাইগার ফারুকের ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়।

মামলার বাদী মহসিন হোসেন রানা জানান, টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুক বেশ কিছুদিন থেকে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। গত ১৫ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তার অফিসে এসে টাইগার ফারুক, বাবু ও জসিম তার কাছে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান পিপিএম-বার টাইগার ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলা ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে টাইগার ফারুক কারাবন্দি হওয়ার খবরের তার নানা অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। তা বলছেন টাইগার ফারুক ও তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এমন কোন অপরাধ নাই এই বাহিনী করে নাই। টাইগার ফারুকের ভাই ছিনতাইকারী জসিম যাকে তাকে হুমকি দেয়। চাকরী দেয়ার নাম করে এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালিয়েছে সে। ওই মামলায় সে আসামী। এছাড়া ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায়। কিন্তু মোটা অংকের টাকা খরচ করে টাইগার ফারুক তাকে জামিনে বের করে আনে। মিজিমিজি বৈশাখী কুঞ্জের উত্তর দিকে বিএনপিকর্মী হযরত আলীর বিল্ডিংয়ের নিচ তলায়  কথিত যুবলীগ কার্যালয়টি সকল অপকর্মের কেন্দ্রবৃন্দ। দিন-রাত সেখানে অপরাধীদের আনাগোনা থাকে। অপরাধীদের কাছে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে কার্যালয়টি পরিচিত। মজার বিষয় হলো চোখ ফাঁকি দিতে কার্যালয়ের দরজায় লেখা রয়েছে আকাশ এন্টারপ্রাইজ ও এ কে এন্টারপ্রাইজ। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক টাইগার ফারুক ও লোহা চোর মোটা কবির। লোক দেখানোর ব্যবসার আড়ালে টাইগার ফারুকের মাদক বিক্রির চিত্র প্রকাশ পেয়ে গেছে এলাকাবাসীর কাছে। তার বাহিনীর কাছে গার্মেন্টের শ্রকিরাও নিরাপদ নয়। এছাড়া টাইগার ফারুকের আরেক ভাই জুয়েল রানাও মাদক বিক্রেতা। একাধিক মামলার আসামী। টাইগার ফারুকের সহযোগিরা মাদক সহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় জুয়েল রানা ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে সাংবাদিককের বিরুদ্ধে কু-রুচিপূর্ণ প্রচারনা চালাচ্ছে।

ওদিকে এলাকাবাসী টাইগার ফারুকের মাদক সিন্ডিকেটের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য জেলার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

উল্লেখ্য সাম্প্রতিক সময়ে তিন দফায় টাইগার ফারুকের ১০ সহযোগি বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্যসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। টাইগার ফারুকের অপকর্মের চিত্র তুলে ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ টাইগার ফারুককে আটক করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »