সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

স্বজনপ্রীতিতে বিএনপি হারিয়েছে ত্যাগী নেতা

বিশেষ প্রতিবেদক: / ৪৬ জন পড়েছেন
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০, ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

একটা সময় ছিলো যখন কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পেলেই বিএনপি নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়ে তুলতো। স্লোগানে স্লোগানে মুখোরিত হয়ে ওঠতো এ শহর। হরতাল কিংবা অবরোধে তাদের অংশগ্রহন থাকতো চোঁখে পড়ার মত। প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও তারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলো পালনে রাজপথে নামতেন। পুলিশ রাবার বুলেট কিংবা লাঠিচার্জেও তাদেরকে দমানো যেতো না। সেই নারায়ণগঞ্জেই বিএনপির আজ করুন অবস্থা।
কেন্দ্রীয় নির্দেশ বা যে কোন কর্মসূচীতেই রাজপথে নামতে সেই বিএনপি নেতারা আজ ভয় পায়। যদি বাধ্য হয়ে কর্মসূচী পালনও করা হয়, তাহলে সেখানে দেখাযায় পুলিশের সাথে আতাঁত কিংবা পুলিশের নির্দেশনায় সংক্ষিপ্ত করা হয় তাদের কর্মসূচী। কেন?
অনুসন্ধানে দেখাগেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি থেকে হারিয়ে গেছে ত্যাগী ও সাহসী নেতারা। যারা পুলিশের ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে রাজপথে বর্জকন্ঠে আওয়াজ তুলতেন। এবং এ আওয়াজের কারণে অনেক সময় পুলিশও পিছু হটতো। সে সব নেতারা আজ উপেক্ষিত। দল তাদের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি। যাদের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই করছেন স্বজনপ্রীতি। দলপ্রীতির বালাই তাদের কাছে নেই। এ স্বজনপ্রীতির কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দল। যারফলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকেও আজ জেল খাটতে হয়েছে। কেননা, দল যদি শক্তিশালী থাকতো তাহলে যেদিন খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠানো হয়, সেদিনই সারাদেশের রাজপথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু না। সেদিনও কেউ রাজপথে নামেন নি। কেননা, রাজপথে নামার মত ত্যাগী ও সাহসী নেতা দলে নেই।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, দলে আজ ত্যাগী ও সাহসী নেতার বড় অভাব। আর এ অভাবটুকু আজ সকলের অনুভোব করতে পারছেন। তাই দলকে আবারও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মুখ ফিরিয়ে নেয়া সেই সকল ত্যাগী নেতাদের দলে স্থান দেওয়ার কথা ভাবছেন বিএনপি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো, তারা সকলেই বয়সের ভারে নুইয়ে গেছেন। বেশি বয়সের কারনে তারা আর আগের মত মাঠে নামতে পারছেন না। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নেই চাঙ্গাভাব। তবে এসবের মাঝেও দলের টুকিটাকি কর্মসূচী পালন করে দলকে কিছুটা হলেও বাঁচিয়ে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও তার কর্মীসর্মকেরা।
আজও মাঝে মধ্যে দলীয় কর্মসূচী পালনে রাজপথে দেখা মিলে তাদের। পুলিশের হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে দলীয় কর্মসূচী পালন করে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রেও বহুবার প্রশংসীত হয়েছেন অ্যাড. সাখাওয়াত। ফলে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে স্থান দেয়া হয়েছে তার কর্মীসর্মকদেরও।
এ বিষয়ে অ্যাড. সাখাওয়াত সিটি নিউজকে বলেন, দলীয় কিছু কমিটি এইরকম ভাবে গঠন করা হয়েছে যে, মাঠে ঘাটের অনেক নেতাকর্মীই সুযোগ পাইনাই। এবং যাদেরকে নেতৃত্বে ফাসানো হয়েছে, এর মধ্যে অনেকেই আছে যারা দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার যোগ্যতা নাই। তারা নেতাকর্মীদের সুখে দু:খে থাকেন না। যারফলে ওই কর্মীরা অনেক সময় মাঠে আসতে চায়না।
এক প্রশ্নের জবাববে তিনি বলেন, দলে পরিবারতন্ত্র খুব একটা নাই। তবে নারায়ণগঞ্জে কিছুটা আছে। এসবের কারনে পদ পদবী নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তাদের প্রতি কর্মীদের আস্থা নাই। কারন, নেতারাই যদি মাঠে না নামে তাহলেতো কর্মীরাও মাঠে নামবে না। নেতারা মাঠে নামলেই কর্মীরা মাঠে নামবে। সে হিসেবে নেতাকর্মীরা বিতৃষ্ণা হয়ে মাঠে নামে না।
‘এসবের কারনে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে’ স্বীকার করে অ্যাড. সাখাওয়াত আরও বলেন, অবশ্যই এসবের কারনে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দলকে যারা গতিশীল রাখবে, তারা নেই। তবে দল এখন এটা উপলব্দি করতে পারছে। যারা গতিশীল, সেই গতিশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য দলের মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। কেউ বসে নেই। ছাত্রদল যুবদল, অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কাজ চলতাছে। আশাকরি, আগামীতে দলে ত্যাগী ও সাহসী নেতারা মূল্যায়ন পাবে এবং সবাই একসাথে মাঠে নামবে ইনশাল্লাহ্।
একই বিষয়ে অ্যাড. সাখাওয়াতের সাথে একমত পোষন করে নারায়ণগঞ্জ যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক বলেন, আপনারা খুব ভালো করেই যানেন, মহানগর বিএনপির যে কমিটিটা হইছে ওই কমিটিটার ব্যাপারে তৃণমূলের অনেকেরই আপত্তি আছে। যে কমিটিতে বাবা হয় প্রেসিডেন্ট আর ছেলে হয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এটা কি একটা কমিটি? এটা মনেহচ্ছে, বাংলাদেশের মধ্যে একটা নজির। বাবার সাথে রাজনীতি করছে তার আপন সন্তান। এমন পরিস্থিতিতে ওই সময়কার মত আন্দোলন কোন ভাবেই সম্ভব নয়। যদি বাপ বেটার কমিটি বাদ দিয়ে কমিটি দেয়া হয়, তাহলে আমি মনে করি সরকার বিরোধী বিএনপির যে আন্দোলন এটা নারায়ণগঞ্জে একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে তিনি আরও বলেন, আমরা অতিতেও এ পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আপনারা দেখেন, তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি নেতা, মাকসুদুল আলম খন্দকার বিএনপি নেতা, তাদের ভাগিনা রশু বিএনপি নেতা, তৈমূর সাবের আপন মেয়ে বিএনপির নেত্রী। ঠিক একইভাবে কালাম সাহেব বিএনপি নেতা, তার ছেলে বিএনপি নেতা, মুকুল বিএনপি নেতা, তার চাচাতো ভাই রানা বিএনপি নেতা। যাদেরই বিএনপির এ দায়িত্বটা দেয়া হয়, তারা মনেকরে তাদের এটা পৈত্তিক সম্পত্তি। তারা মনেকরে, তাদের বাপ দাদার ওয়ারিশসূত্রে এ দলটা পাইছে। এসব চিন্তাভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলেই পূর্বের সেই আন্দোলনটা ফিরে আসবে বা ফিরে পাবো।
‘পরিবাতন্ত্রের রাজনীতির কারনেই দল থেকে ত্যাগী ও সাহসী নেতারা বাদ পরেছে’ এমন দাবি করে পারভেজ মল্লিক আরও বলেন, পরিবারতন্ত্র না এমন কাউকে দলের নেতৃত্ব দেয়া হউক যারা পরিবারতন্ত্র রাজনীতি করবেনা। দলকে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আজকে ‘পরিবাতন্ত্রের রাজনীতির কারনেই দল থেকে ত্যাগী ও সাহসী নেতারা বাদ পরেছে এবং দল দূর্বল হয়ে পড়ছে।

 

আরও পড়ুন : ঈদের পর থেকে দুই থানায় ৮ লাশ


এ বিভাগের আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Translate »
Translate »