আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী-আইভী


নিজস্ব প্রতিবেদক:

আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী। ভয় অব্যশই পাই নাই, পাবোও না বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা যেকোনো সংঘাতে লিপ্ত হতে চাচ্ছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে শহরকে অস্থির করতে চাচ্ছে। সে বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। হুটহাট করে কেউ কিছু করবেন না।

 

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জকে জঙ্গি খেতাব দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কে করছে? কারা করছে? তারা হলো এই আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা স্বার্থান্বেষী লোক। এমন নেতা আছে যার কোনো ব্যবসা নাই অথচ তার কোটি কোটি টাকা আয়। এ শহরে তাদের জায়গার কোনো অভাব নাই, টাকা দিয়ে তারা সবকিছু করতে পারে। তাদের কাছ থেকে যেন আমরা সাবধান থাকি।

 


আওয়ামী লীগের এই মেয়র বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন আমি আলী আহম্মদ চুনকার সন্তান এবং আলী আহম্মদ চুনকা কিন্তু শ্রমিক লীগের একজন নেতা ছিলেন। তার শুরু হয়েছিল শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উনি আওয়ামী লীগ করে গিয়েছেন। আমি সে শ্রমিকমিকেরই সন্তান। যার জন্যে আপনাদের ডাকে আমি এখানে এসেছি।

 

আমি আমার বাবাকে সব সময় দেখেছি সাধারণ মানুষের সাথে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সাথে এবং এই সাধারণ মানুষের পাশে থেকে শহরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে আমরা দেখছি সবখানেই দ্বিধা-বিভক্তি করে ফেলছে। যেভাবে একটি শ্রমিক সংগঠনকে দ্বিধা-বিভক্তি করলো তা আমাদের মোটেও কাম্য ছিল না। জেলা শ্রমিক লীগ এবং মহানগর শ্রমিক লীগের সবসময় নিরপেক্ষভাবে সম্মেলনগুলো করা হতো। কিন্তু এবার জানতে পারলাম একটি পক্ষ কেন্দ্র থেকে যে বিভক্তির সূচনা করলেন তা না করে সঠিকভাবে করা যেতো।

 

আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা আপনাদের কার্যক্রম চালিয়ে যান। কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রাখবেন যেন আপনাদের অব্যশই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে।


আইভী বলেন, আপনারা যেমন শেখ হাসিনার কর্মী ঠিক আমিও একজন শেখ হাসিনার কর্মী। এখানে নেতা বলে কেউ নেই। নেতা আমাদের একজনই তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা। সব মিলিয়ে একটি কথা আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাচ্ছি আপনারা শুধু ধৈর্য ধরবেন।

 

আপনারা যেভাবে রাজপথে ছিলেন ঠিক সেভাবেই রাজপথে থাকবেন। যারা দলের দুঃসময়ে সার্বিকভাবে পাশে থেকে হাল ধরে ঠিক ঐসময়ে কিছু সুবিধাবাদী লোক এসে সে হালধরা লোকদের বঞ্চিত করে। সুতরাং ঘাবড়ানোর কিছু নাই ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনারাও জয় বাংলা বলবেন, শেখ মুজিব বলবেন, শেখ হাসিনা বলবেন তারাও বলবে। কিন্তু রাজপথে যে সৈনিকরা টিকে থাকতে পারে তারাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মূল্যায়িত হবেন।


শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সিটি মেয়র বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষেই যেন আপনাদের তৎপরতা না থাকে, সারাবছর এ তৎপরতা ধরে রাখবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিম্ন আয়ের লোকদের জন্যে অনেক কিছু করে যাচ্ছেন। এই কোভিড মহামারীতে গার্মেন্টস সেক্টরের মানুষদের উনি অনেক বেশি প্রণোদনা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আ'লীগের যৌথকর্মী সভায় সাইফউল্লাহ বাদল

 

বিশেষ করে উনি নারী শ্রমিকদের প্রতি অনেক বেশি সহনশীল। তাদের জন্যে উনি আজকে মহিলা শ্রমিকলীগ গঠন করেছেন। এভাবেই উনি নারীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব গড়ে তুলছেন। উনি কৃষকসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেছেন। যে কাজগুলো তুলে ধরার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের রয়েছে। আমাদের মধ্যে বিভেদ হানাহানি না করে আমরা সবাই যেন এ কথাগুলো বলি।


জেলা শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, জেলা শ্রমিক লীগ নেতা মাইনুদ্দিন আহমেদ বাবুল, হুমায়ুন কবির, আখাতারুজ্জামান, ফিরোজ কায়সার আলম, মো. শহিদ উল্লাহ, মো. বাহাউদ্দিন, মো. শাহ আলম, মো. হাসিবুল ইসলাম প্রমুখ

 

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন