একজন জনপ্রতিনিধির গল্প

এই তরুন সম্পর্কে ইতিবাচক অনেক কথা শুনেছি।কিন্তু কয়েকদিন আগে স্কুল জীবনের সহপাঠী, যে কিনা সদ্যগত পরিষদে আলোচ্য তরুনের মতো আরেক ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়ে একসঙ্গে পাঁচ বছর কাজ করেছে।

 


নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ করে ঐ সহপাঠী সেদিন বললো,পরিষদের নয়জন মেম্বারের আটজনই কিছু না কিছু সুবিধা ভোগ করেছি,সরকারি বরাদ্দ বন্টনে স্বজনদের বা ভোট ব্যাংককে অগ্রাধিকার দিয়েছি।আশ্চর্য ব্যতিক্রম ছিলো এই তরুণ।হিসাব করলে দেখা যাবে,গত পাঁচ বছরে দশটাকা সে ভোগ করেনি,উল্টো নিজের টাকায় এলাকার মানুষকে সাহায্য করেছে, বরাদ্দ বন্টনে বাছবিচার করেনি।আর বিগত পরিষদের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কাজ করেছে সে।


আমার সহপাঠীর কথাগুলো বারবার কানে ভাসছিলো।আমার সাংবাদিক সত্তা, বিবেক বারবার তাগিদ দিচ্ছিলো, সরেজমিনে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে তেমন কিছু দৃশ্যমান হলে, তাঁর গল্পটা সবাইকে জানানো দরকার।

 

এতে করে সে উৎসাহিত হবে।ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে উদ্বুদ্ধ হবে। সেই লক্ষ্যে বেশকিছু দিন আমি তাঁর এলাকা ঘুরে, বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষদের সাথে কথা বলে,তাঁর সময়ের উন্নয়ন কাজের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে গল্পের মোড়কে প্রতিবেদনটি সোজাসাপটা পাঠকদের জন্য তৈরী করেছি।


আলোচ্য যুবকের নাম মোঃ সৈকত হোসেন। সৈকত নামেই পরিচিত সকলের নিকট।সদর থানাধীন গোগনগর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের সদ্যগত পরিষদের নির্বাচিত মেম্বার। এ বছর ৩১শে পাঁ দেয়া এই ছেলেটি যখন নির্বাচনে দাঁড়ান তখন সে পঁচিশ বছরের টগবগে তরুণ।সমৃদ্ধ পারিবারিক পরিচয়ে এলাকার মানুষ তাঁকে সেবার ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনলেও গতানুগতিকতার বেশি কিছু প্রত্যাশা ছিলোনা তাঁর কাছে।

 

কিন্তু প্রবল দেশাত্মবোধের অধিকারী এই তরুন গত পাঁচ বছরে নিজের আন্তরিকতা,মানুষের জন্য কিছু করার দায়বোধ থেকে অসাধারণ নজির স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন। গত নির্বাচনে যাঁর যোগ্যতা বলতে ছিলো, বিশিষ্ট দানবীর জনাব আলমাস আলী সাহেবের ভাতিজা, জনাব,আসলাম আলীর পুত্র। নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করে,দুঃসময়ে নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ সুষম বণ্টন করে, সময়ের বাছবিচার না করে মানুষের বিপদে কাছে থেকে সর্বোপরি নিজের নিরহংকারী ও মিশুক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে গত পাঁচ বছরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।এলাকার মানুষের নির্ভরতার প্রতিক হয়ে উঠেছেন।

 


পারিবারিক জীবনে তাঁরা দুই ভাই। ছোট ভাই অষ্ট্রেলিয়ায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত।গত বছর ১২ই আগষ্ট পিতাকে হারিয়েছেন। যা কিনা অপ্রত্যাশীতই ছিলো।বাবার মৃত্যুর পরে ব্যবসার দায়িত্ব, পরিবার,জনপ্রতিনিধিত্ব সবকিছুই ক্লান্তিহীন ও সফল ভাবে পালন করে চলেছেন।সরেজমিনে কয়েকদিন ঘুরে আমি কথা বলেছি অনেকের সঙ্গে।

 

ষাটোর্ধ মোতাহার হোসেন বলেন, ও আমাদের চোখের সামনেই বড় হইছে।ছোটবেলা থেকেই সবার ডাকে সাড়া দিতো,মেম্বার হওয়ার পর একজনও কইতে পারতোনা যে,সৈকতরে দরকারের সময় পায় নাই।

 


দুই সন্তানের মা ২৮বছর বয়সী ছন্দা বলেন,সৈকত ভাইয়ের মতো মানুষ হয়না।আমার মায়ের বাড়ী,শ্বশুরবাড়ী এই এলাকাতেই।উনি নিজে খোঁজ নিয়ে আমার মা আর শ্বাশুড়ি মায়ের বয়ষ্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন।


ইমরান হোসেন (৩৮)জানান,গত দুই করোনার সময় সৈকত ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে।


কয়েকদিনে তাঁর সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি। সবই ইতিবাচক। প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথেও জড়িত সে।সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সে।
অবশেষে দেখা করি সৈকত এর সঙ্গে। সদা হাস্যোজ্বল ও যথেষ্ট বিনয়ী সৈকত কে জিজ্ঞেস করেছিলাম,নিজের কাজে কতোটা সন্তুষ্ট? উত্তরে সে বলে,ভাই মানুষ আমি ছোট কিন্তু স্বপ্ন অনেক বড়। হ্যাঁ এটা বলতে পারি বিবেকের কাছে সৎ থেকে, আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।


আমি যতটুকু বরাদ্দ পেয়েছি তাঁর শতভাগ তো দিয়েছি,নিজের থেকে দিতেও কার্পন্য করিনি।পর্যায়ক্রমে গত পাঁচ বছরে তাঁর করা উন্নয়ন কাজের বর্ননা দিয়েছেন। যা আমি আগেই অবগত হয়েছি।নির্বাচনী এলাকার অলিগলির রাস্তায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ আরসিসি রাস্তা করে দিয়েছেন।মসজিদ গুলোর দিকে বিশেষ যত্নবান ছিলেন।পাঠান বাড়ী মসজিদে সোলার প্যানেল বসিয়েছেন।


বায়তুল কোবা মসজিদে সামারসেবল পাম্প বসিয়ে বিশুদ্ধ পানিয়র ব্যবস্থা করেছেন।সৈয়দপুর ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে বড় অংকের বাজেট দিয়েছেন।


মোহাম্মদী ক্লাবেও গভীর নলকূপের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানিতে ব্যবস্থা করেছেন।নিজের এলাকায় বারোটি স্ট্রীট লাইট বসিয়েছেন,নিজের ব্যক্তি উদ্যোগে দরিদ্র দুই পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দিয়েছেন।মোদ্দাকথা সৈকত নিজ সীমাবদ্ধতার উর্দ্ধে উঠে কাজ করেছেন।
আর সেই জন্যই গত পাঁচ বছরে পুরো ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে তাঁর ৪নং ওয়ার্ডে।


কোন অতৃপ্তি আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন,একটি কাজ আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পরিপূর্ণ করতে পারিনি। আমার এলাকায় সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে উঠতে পারিনি।নিজের ৭০হাজার টাকা খরচ করে একটি পাম্প বসিয়েও সুপেয় পানি পাইনি।আর তৃপ্ত হতে আমাকে স্বপ্নটা ছুঁতে হবে। বলেছিলাম না,আমার স্বপ্ন অনেক বড়।আমার পর্যবেক্ষনে জেনেছি আগামী নির্বাচনে সৈকত বড় ব্যবধানেই জয়ী হবে।

তবুও তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, জয়ের ব্যাপারে কতোটা আশাবাদী? সৈকত বলেন, গত পাঁচ বছর আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যদি আমার এলাকার মানুষ মনে করেন,সৈকতকে তাঁদের প্রয়োজন, তাহলে আমাকে ঠিকই জয়ী করে আনবেন।

 

আর যদি সেটা না হয়,আমি ধরে নেবো,আমি ব্যর্থ ছিলাম তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে।ফলাফল যাই হোক আমি সবসময় সর্বাবস্থায় মানুষের জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর। এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান কিনা?সৈকত বলেন,সবকিছুর শেষে আমি একজন মানুষ।

 

চলার পথে মানুষ ভুল করে। আমিও যদি আপনাদের কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি,কোন ভুল করে থাকি,নিজেদের সন্তান ভেবে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।আগামী নির্বাচনে যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন,তাহলে আমাকে নির্বাচিত করবেন।আমি এটুকুই বলতে পারি, গতবারের চেয়ে সামনে আরও বেশি ভালো করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে ৪ অপহরণকারীকে গণপিটুনি


আমাদের আলাপচারিতায় বহু প্রসঙ্গ উঠে আসে। তাঁর ভেতর আছে সদিচ্ছা। সে আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে। সে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ভাবিত। এইটুকু বয়সে এতো সুন্দর আর গোছানো ভাবনা সত্যিই আশা জাগায়। বাংলাদেশের সব জায়গায় যেনো সৈকতেরা জন্মায় সেই প্রত্যাশা মনে বিদায় নেই সৈকতের কাছ থেকে।

 

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন