করোনা হাসপাতাল: রোগীর ভাড়া করা অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি

চরম অব্যবস্থপনায় চলছে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতাল। সিন্ডিকেট কবলিত এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিম্ন পর্যায়ে থাকলেও নেই কারো মাথা ব্যথা। অক্সিজেন সরবরাহ করতে ব্যর্থতায় রোগীর ভাড়া করে আনা সিলিন্ডার দেখভালের পরিবর্তে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চুরি হয়ে গেছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে এ হাসপাতালে করোনায় মারা যাওয়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে।

 

ভাড়া করে আনা অক্সিজেন সিলিন্ডারের মালিক সিলিন্ডারটির দাম ৩০ হাজার টাকা বলে দাবী করছেন স্বজনদের কাছে। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছেন করোনায় মৃত মো: তৈয়বুর রহমানের স্ত্রী আরিফা বেগম। একদিকে স্বামী হারানো শোক অপরদিকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের জরিমানার টাকা যোগার করতে পারছেন না তিনি। ফলে স্ত্রী আরিফা এক অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

 

বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন মৃত তৈয়বুর রহমানের ভাতিজা ডা: মো: রাগিবুর রহমান। কিন্তু একই কথা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে তিনি হাসপাতাল সুপার বরাবরে ভাড়াকৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারটি ফেরৎ পেতে গতকাল ৩১ জুলাই আবেদন করেছেন।


আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৩ জুলাই জুলাই করোনা আক্রান্ত তার চাচা তৈয়বুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালের ২৩নং ওয়ার্ডের ১৮নং বেডে ভর্তি করেন। তার অক্সিজেন লেবেল ৫৮তে নেমে যাওয়ায় প্রয়োজন হয় অক্সিজেনের।

 

কিন্তু হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট থাকায় তারা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে বাইরে থেকে লিন্ডা কোম্পানীর একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়ায় এনে রোগীকে অক্সিজেন দেবার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তিতে অক্সিজেনসহ তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের স্টাফদের জানিয়ে ও দেখিয়ে আইসিইউতে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি রেখে দেয়া হয়। ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৈয়বুর রহমান। তাকে দাফন করার পর সিলিন্ডারটি ফেরৎ নিতে আসলে তা আর খুঁেজ পাওয়া যায়নি।


মৃত তৈয়বুর রহমানের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা লাশ দাফন শেষে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি আনতে হাসপাতালে যান। কথা বলেন ওয়ার্ড বয় বাবুল ও মিঠুর সঙ্গে। তারা জানান, সিলিন্ডারটি পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তারা কথা বলেন রনির সঙ্গে। কিন্তু সিলিন্ডারটির হদিস কেউ দিতে পারেননি।


পরবর্তিতে এ প্রতিবেদক সিলিন্ডারের দায়িত্বে থাকা নূরে আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি অসুস্থ। করোনা টেষ্টের জন্য নমুনা দিয়েছি। বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। তবে সিলিন্ডারটি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার এখানে যত সিলিন্ডার রয়েছে তার সবগুলোই নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যা হাসপাতালের নাম ছাপার অক্ষরে রয়েছে।

 

তার ওখানে নাম ছাড়া কোন অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকার কথা নয়। প্রতিদিনই সিলিন্ডার রিফিলের জন্য পাঠানো হয়। আমাদের এখানে থাকলে তা পাওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন তার এখানে যে নেই তা তিনি অনেকটাই নিশ্চিত।

আরও পড়ুন:আসছি খালি হাতে যাবো খালি হাতে: শামীম ওসমান

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ অক্সিজেন সিলিন্ডারটি গেল কোথায়? আইসিইউতে কি তাহলে চোরের আনাগোনা রয়েছে। সিসি ক্যামেরায় বিষয়টি সনাক্ত করে তার বের করার জোর দাবী জানিয়েছেন স্বজনরা। এভাবে চলছে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতাল। অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালটি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাদের মতামত ব্যতিরেকে এখানে কিছুই করা যায় না। সম্প্রতি এ করোনা হাসপাতালের বেডে কুকুর. এ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারপরও বিন্দুমাত্র কোন মাথা ব্যথা নেই কতৃপক্ষের। এর শেষ কোথায়?

 

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন