ধরাশায়ী মাওলানা আউয়াল-ফেরদাউস

 নানান রাজনৈতিক গুটি চালতে যেয়ে অবশেষে একজন ডিমোশন ও কিক আউট হলেন অপর হেফাজতের নারায়ণগঞ্জের নেতা। নারায়ণগঞ্জের সরকার দলীয় পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতিতে নিজেদের সামনের সারিতে এনে জনপ্রিয় এক নেত্রীর বিরুদ্ধাচারনই কাল হলো তাদের? এদের মধ্যে মাওলানা ফেরদাউস সরকার দলীয় একটি প্রভাবশালী অংশের পদলেহন করছেন কৌশলে। চাটতে চাটতে কখন যে জিভের ছাল খসে পড়েছে তা এতদিন টেরই পাননি। তবে অর্থবিত্তের দর্শণ লাভ করেছেন। ঘুরে বেড়ান দামী কারে। অভিযোগ রয়েছে তিনি সরকারদলীয় একটি অংশের বার্তাবাহক হয়ে বারে বারে নানান জটিল কর্ম করে বেরিয়েছেন অপর এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। কখনও কখনও সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরোধেও জড়িয়েছেন মাওলানা ফেরদাউস। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের নিয়ে নালিশও করেছেন তিনি। অপরদিকে সংখ্যায় কম হলেও কম যাননি মাওলানা আউয়াল। তিনিও একই পথে হেটেছেন। হোচটও খেয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসাকে সামনে নিয়ে এসে তিনি ধর্মের দোহাই দিয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। সফল হতে পারেননি। আজ কর্মদোষে তাদের নিজের দলেই অবস্থান নড়বড়ে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের দুই শীর্ষ নেতা মাওলানা আবদুল আউয়াল এবং ফেরদাউসুর রহমানের হাতে জিম্মি সংগঠনটি । মূলত এই দুই নেতার হাতেই বন্দি নারায়ণগঞ্জের হেফাজতে ইসলাম। ধর্মভিত্তিক কর্মসূচির বাহিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেও কলকাঠি নাড়েন তারা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের গত কমিটিতে এই দুইজন ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সহ প্রচার সম্পাদক। কিন্তু নতুন ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাওলানা আবদুল আউয়ালকে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাখা হলেও বাদ পড়েছেন গতবারের সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউস।

গতকাল সোমবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় ঢাকার খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে।

মাওলানা ফেরদাউস ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ থেকে বাদের তালিকায় রয়েছেন, অর্থ সম্পাদক মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সদস্য মুফতি বশিরউল্লাহ। মনির হোসাইন কাসেমী ও বশিরউল্লাহ বর্তমানে নাশকতার মামলায় কারাগারে আছেন। মনির হোসাইন কাসেমী গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ৫ মে শাপলা চত্বরে নাশকতা, ২০২০ সালের মামলা, নারায়ণগঞ্জে মামলা ও নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মুফতি মনির হোসেন কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মুহতারিম।

 

আরো পড়ুন: বুমেরাং হচ্ছে ডিএনডি প্রজেক্ট!

 

মুফতি বশিরউল্লাহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুফতি বশির উল্লাহ। সেই হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে রীতিমতো তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে আগুন, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে তারা। নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে লাঠি-সোটা, ঢিল হাতে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজতের পিকেটাররা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন