লঞ্চে ভাড়া দেড়গুণ, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ দেড় মাস পর গত ২৪ মে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে শুরু হয় লঞ্চ চলাচল। শুরুর দিকে স্বাস্থবিধি মেনে চললেও এখন তা আর চোখে পড়ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের নির্দেশ থাকলেও তা মানছে না কেউ। সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই গাদাগাদি করে লঞ্চগুলোতে চলাচল করছে যাত্রীরা।

শুক্রবার (৪ জুন) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দেড়গুণের অধিক ভাড়া আদায় করলেও ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করছে। লঞ্চ চলাচলের শুরুর দিকে যাত্রী, লঞ্চ চালক, কেরানীদের মুখে মাস্ক থাকলেও এখন কাউকেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। যাত্রী থেকে শুরু করে লঞ্চের চালক, কেরানিদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। হ্যান্ড স্যানিটাইজিংয়ের কোনো ব্যবস্থা ছিলো না লঞ্চগুলোতে।

আরো পড়ুন: আজ মেয়র আইভী’র ৫৫তম জন্মদিন

 

এদিকে প্রতিনিয়ত করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। করোনায় আক্রান্তের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বৃদ্ধরা। লঞ্চগুলোতে তাদেরও চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে শিশু বৃদ্ধদের করোনায় আক্রান্তের শঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুর এবং মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেড়গুণ ভাড়া নিলেও লঞ্চগুলোতে অধিক যাত্রী বহন করা হচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা এবং চাঁদপুরের ১০০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা করে রাখা হচ্ছে। অধিক যাত্রী বিষয়ে প্রতিবাদ করলেও এ বিষয়ে কেউ কোনো কর্ণপাত করছে না বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।

চাঁদপুর থেকে নারায়ণগেঞ্জ আসা যাত্রী মানিক বলেন, ‘লঞ্চে অনেক গরম, বাচ্চা কান্নাকাটি করতেছিল। তাই আর ওকে মাস্ক পরাই নাই। ঝুঁকি থাকলে কী আর করার বাধ্য হয়েই আসতে হচ্ছে।’

মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা যাত্রী বাদল বলেন, ‘তারা শুধু ভাড়ার দিকটাই মানছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকটা তারা দেখছেই না। অর্ধেক যাত্রী নেয়ার কথা তুলতেই বলে, যাইতে মন চাইলে যান, না মন চাইলে নেমে যান। কী আর করার আর সবার মত বাধ্য হয়েই আসতে হয়েছে।’ এসব অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত সমাধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাত্রীরা।

মন্তব্যসমূহ (০)


Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন